অসুস্থ শিশু কন্যাকে দেখা হলো না ইউসুফের

এক বছরের শিশু কন্যার অসুস্থতার খবর পেয়ে কোন কাজেই মন বসছিল না আলী মোহাম্মদ ইউসুফের। তাই কন্যাকে দেখতে সোমবার দিবাগত রাতে উদয়ন ট্রেনে রওনা হয়েছিলেন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। পথে বারবার স্ত্রী চিশতিয়ার নিকট মোবাইলে ইশার শরীরের খবর নিচ্ছিলেন। পথ চেয়ে বসে থাকা স্ত্রী চিশতিয়া ও কন্যা ইশার কাছে ইউসুফ পৌঁছালেন ঠিকই, তবে লাশ হয়ে।

হবিগঞ্জ শহরের আনোয়ারপুর এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ। বাবা ছিলেন মৎস্য ব্যবসায়ী। ২০১১ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরেন বড় ভাই ওসমান। ৭ বছরের মাথায় ২০১৭ সালে তিনিও মারা যান মরণব্যাধি ক্যানসারে। মাথার ওপর থেকে ছায়া সরে যাওয়ায় মা আর ছোট ভাইকে নিয়ে বিপাকে পড়েন সে সময়কার কলেজছাত্র ইউসুফ। কিন্তু দমে যাননি তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে লেখাপড়া ও সংসার দুইই চালাতেন এই মেধাবী যুবক। ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স শেষ করার পর তিনি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের অধ্যক্ষের চাকরি পান। বেতনে কুলিয়ে ওঠাতে না পারায় চাকরির পাশাপাশি টিউশনিও করতেন।

দুই বছর আগে তিনি আজমিরীগঞ্জের বাসিন্দা চিশতিয়া বেগমকে বিয়ে করেন। স্ত্রী চিশতিয়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিডওয়াইফ হিসাবে চাকরি করছেন। গত বছর তাদের সংসারে জন্ম নেয় এক কন্যা শিশু।

ইউসুফের দুলাভাই বাহার আলী জানান, সোমবার উদয়ন ট্রেনের যে বগিতে ইউসুফ উঠেছিলেন তার লাগোয়া বগিতে ছিলেন হবিগঞ্জ শহরের রাজনগর এলাকার বাসিন্দা আরও দুই পরিচিত যুবক। দুর্ঘটনায় পর পরই ওই দুই যুবক ইউসুফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। তারা অন্যান্য আহতদের সঙ্গে ইউসুফকে একটি পিকআপে তুলে দেন। কিন্তু হাসপাতালের পৌঁছার আগেই মারা যান তিনি।

বাহার মিয়া বলেন, ইউসুফই ছিলেন এই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার স্ত্রী-কন্যা, বৃদ্ধ মা ও ছোট ভাই আমজাদকে দেখার আর কেউ রইল না।

সন্ধ্যায় লাশবাহী গাড়ি আনোয়ারপুরে পৌঁছালে অসংখ্য নারী-পুরুষ ভিড় করেন এক নজর ইউছুফের মুখ দেখতে। মুহূর্তের মধ্যে পরিবারের সদস্য আর স্বজনদের কান্নায় আওয়াজে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠে। বাড়ির মহিলারা মাটিতে লুটিয়ে গড়াগড়ি করতে থাকেন। স্বজনদের কান্নায় চিৎকার করতে থাকে এক বছরের শিশু ইশাও।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রুবেল আহমেদ চৌধুরী জানান, নিহত আলী মোহাম্মদ ইউসুফ জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন।