মুজিববর্ষে প্রতি ঘরে বিদ্যুৎ : প্রধানমন্ত্রী

দেশের প্রতিটি ঘরে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে আমরা মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, মুজিববর্ষ উদযাপনের মধ্যে আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ অন্ধকারে থাকবে না, সব ঘরেই আলো জ্বলবে।’

গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ২৩ উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে তিনি

এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়াও বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণও গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার সে জন্যও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে কম দামে বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য সরকার এ খাতে ব্যাপক ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূলের জনগণও যাতে উন্নয়নের ফল পায়, এ লক্ষ্যেই সরকার সব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘আমরা বিষয়টি লক্ষ্য রেখে আমাদের সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। তার মানে আমরা শুধু শহরাঞ্চলে বা রাজধানীতে উন্নয়ন করতে চাই না’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার বিকাশে, কর্মসংস্থানে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর সরকার গঠন করে ১৯৯৬ সালে তার সরকার দেশে বিদ্যুৎ পেয়েছিল মাত্র ১৬শ’ মেগাওয়াট। পরবর্তী পাঁচ বছরে তা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩শ’ মেগাওয়াট করে রেখে গেলেও ২০০১ পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পরবর্তী পাঁচ বছরে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এক মেগাওয়াটও বাড়াতে পারেনি। উপরন্তু, তা কমিয়ে ৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াটে নিয়ে আসে।

উদ্বোধিত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র হলো আনোয়ারায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, রংপুরে ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলীতে ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিকলবাহা ১০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, পটিয়ায় ৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেঁতুলিয়ায় ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গাজীপুরে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র। নতুন এ সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৭৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২২ হাজার ২৬২ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

এর মাধ্যমে দেশের ৯৪ শতাংশের বেশি জনগণ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এলো। শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতার ২৩ উপজেলা হলোÑ বগুড়ার গাবতলী, শেরপুর ও শিবগঞ্জ, চট্টগ্রামের লোহাগড়া, ফরিদপুরের মধুখালী, নগরকান্দা ও সালথা, গাইবান্ধার ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর ও পলাশবাড়ী, হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর ও নবীগঞ্জ, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও মহেশপুর, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম, লালপুর ও সিংড়া, নেত্রকোনার বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জ এবং পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া, কাউখালী ও ইন্দুরকানী।

এর মধ্য দিয়ে দেশের ৪৬১টি উপজেলার মধ্যে ২৩৪টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হলো। আরও ১২৭টি উপজেলায় শিগগিরই শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্ভব হবে, যেগুলো এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া, বাকি একশ’ উপজেলায় আগামী ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ উদযাপনকালে বিদ্যুতায়ন করা হবে।

দেশকে শতভাগ বিদ্যুতায়নে নিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াটে নিতে ব্যাপক কর্মসূচির বাস্তবায়ন করছে।

ডেপুটি স্পিকার ফজলে বাব্বি মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মো. শহীদুজ্জামান সরকার গণভবনের অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।