বিদ্রোহে উসকানির শাস্তি বাড়ছে পুলিশে

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ সদস্যদের বিদ্রোহে উসকানির শাস্তি ছয় মাসের জেল বাড়িয়ে দুই বছর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জরিমানা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৫০ হাজার। অভিযুক্তদের উভয় দ-ের বিধান রেখে ‘পুলিশ (বিদ্রোহে উসকানি) আইন, ২০১৯’-এর খসড়া করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। আইনটির খসড়া অনুমোদনের জন্য শিগগিরই মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিদ্রোহের মনোভাব বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এ আইনের খসড়া করা হয়েছে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী বিডিআরে বিদ্রোহ হয়। তার আগে নব্বইয়ের দশকে আনসার বাহিনীতে হয় আনসার বিদ্রোহ। দুটি বিদ্রোহের বিচারই আদালতের মাধ্যমে করা হয়েছে বা হচ্ছে। অবশ্য বিডিআর বিদ্রোহের পর বিদ্রোহ ও উসকানির শাস্তি বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমানে পুলিশে বিদ্রোহের শাস্তি দেওয়া হয় ১৯২২ সালের ‘পুলিশ (ইনসাইটমেন্ট টু ডিজএফেকশন) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী। প্রস্তাবিত আইনটি কার্যকর হলে পুরনো আইনটি বিলুপ্ত হবে। তবে পুরনো আইনে চলমান মামলা পুরনো আইনেই নিষ্পত্তি করতে হবে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের পর খসড়া আইনটি সংসদে পাস হওয়ার পর তা কার্যকর করতে প্রজ্ঞাপন জারি করবে সরকার। অর্থাৎ পাস হওয়ার পরও কার্যকরের জন্য সরকার যে তারিখ নির্ধারণ করবে সেই তারিখ থেকেই আইনটি কার্যকর হবে।

খসড়া আইনে উসকানির সংজ্ঞা বলা হয়েছে, উসকানি অর্থ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কোনো কাজ করে বা করার চেষ্টা করে যা দিয়ে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশ বা সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সে জানে। যে ব্যক্তি পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যকে এ ধরনের কোনো কাজ করতে প্ররোচনা করে এবং সে জানে যে তার প্ররোচনায় ওই বাহিনীর কোনো সদস্য কর্তব্য পালন থেকে বিরত থাকতে পারে বা বিরত থাকবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিকে উসকানি অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে খসড়ায়।

ইংরেজি ভাষায় প্রণীত সব আইন বাংলা ভাষায় রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ইংরেজি ভাষায় প্রণীত ও বর্তমানে প্রচলিত পুলিশ সংশ্লিষ্ট সব আইন বাংলায় ভাষান্তর করার জন্য ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। এ কমিটি আইনের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সংশোধনের সুপারিশ করে। এ কমিটিই ‘পুলিশ (ইনসাইটমেন্ট টু ডিজএফেকশন) অ্যাক্ট’ ভাষান্তর ও সংশোধন করে নতুন

করে প্রণয়ন করার সুপারিশ করে। খসড়ার ওপর ইতিমধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামতও নেওয়া হয়েছে।

নতুন আইনে পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যের কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য তাকে কর্তব্য পালন থেকে আইনসম্মতভাবে বিরত থাকার জন্য প্ররোচনা করা হলে সেটা উসকানি হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে এবং সরকারের স্বীকৃতপ্রাপ্ত সমিতির জন্য কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হলেও সেটা বিদ্রোহ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। এ দুটি কাজকে সরল বিশ^াসে সম্পাদিত কাজ হিসেবে দেখা হবে।

এ আইনের অধীনে সব অপরাধ আমলযোগ্য। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পূর্বানুমোদন অথবা তার লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো আদালত এ আইনের অধীনে কোনো অপরাধ বিচারের জন্য আমলে নেবে না। প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নিচের কোনো আদালত এ আইনের অধীনে অপরাধের বিচার করতে পারবে না। এ আইনে কোনো অপরাধের বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে হবে না বলেও খসড়া আইনে বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, আইনের খসড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে উত্থাপনের আগে প্রতিবেশী ভারতসহ অন্যান্য দেশে এ ধরনের বিচার কীভাবে হয় তা দেখা হবে। পুলিশ সদস্যদের বিদ্রোহে অংশগ্রহণ সম্পর্কিত অপরাধ ও বিচার সংক্রান্ত বিষয়সমূহ ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন ছাড়াও অন্য কোনো আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ১৯২২ সালের আইনটিও ভারতে প্রচলিত ছিল। সম্প্রতি তারা আইনটি সংশোধন করেছে। এছাড়া ১৮৮১ সালের পুলিশ আইন বা অন্য কোনো আইনে এ বিধান থাকার কোনো সুযোগ নেই বলেও তারা জানিয়েছেন।