স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, গত বছরের মতো এবারও বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধী বা মানবতাবিরোধী অপরাধী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে না। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন বিজয় দিবস উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় পতাকা উত্তোলনে যথাযথ নিয়ম মানতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সংশ্লিষ্টদের দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল, পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব শহিদুজ্জামান, র্যাবের মহাপরিচালক ড. বেনজীর আহমেদসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মনীতি রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় পতাকার নির্দিষ্ট মাপ ও অন্যান্য বিষয় রয়েছে। জাতীয় পতাকার নির্দিষ্ট মাপ ছাড়া কোনো পতাকা ব্যবহার করা যাবে না। মলিন, ছেঁড়া, রংচটা পতাকা উত্তোলন করা যাবে না। শুধু ১৬ ডিসেম্বর যে কেউ পতাকা উত্তোলন করতে পারবেন। পরদিন পতাকা নামিয়ে ফেলতে হবে। তিনি বলেন, বিজয় দিবসে রাজধানীসহ সারা দেশে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, কূটনীতিকদের বিশেষ নিরাপত্তা মাধ্যমে আনা-নেওয়া করা হবে। অপ্রীতিকর ঘটনা ও যেকোনো পরিস্থিতি এড়াতে সাভার থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকাটিও সিসিটিভির আওতায় থাকবে। যেন কোনো নাশকতা কেউ ঘটাতে না পারে সে বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। ঢাকা থেকে সাভার পর্যন্ত কোনো তোরণ করতে দেওয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন সাংস্কৃৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যালির আয়োজন করে। এসব অনুষ্ঠানের সাত দিন আগেই সংশ্লিষ্ট থানা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। সে অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেওয়া হবে। ৪১১টি স্থানে ফায়ার সার্ভিস অ্যালার্ট থাকবে। স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স থাকবে স্মৃতিসৌধসহ গুরুত্বপূর্ণ সব জায়গায়।’ তিনি জানান, বিজয় দিবসের র্যালি, প্যারেডসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য বিভিন্ন স্থানে এলইডি স্ক্রিন বসানো হবে। সড়কপথে যান চলাচল সচল রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজয় দিবসে জেলখানা, হাসপাতাল, এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। তিনি বলেন, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এলে অনেকেই ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস মনে করে আলোকসজ্জা করেন। বুদ্ধিজীবী দিবস মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে ওইদিন সারা দেশে কেউ আলোকসজ্জা করতে পারবেন না। সেজন্য দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আবরার হত্যার বিচার শিগগিরই : এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যার বিচার শিগগিরই শুরু হবে। বিচার করবে আদালত। তদন্ত সংস্থা পুলিশ বাহিনীর মাধ্যমে নির্ভূল চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই বিচারকাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, আবরার হত্যা মামলার যেসব আসামি পালিয়ে আছে, তাদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা চলছে। যেখানেই আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকুক না কেন, তাদের ধরে ফেলা হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধু দুর্নীতিবিরোধী নয়, সব অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিযান চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেখানেই তথ্য আসছে, তারই ভিত্তিতে অভিযান চলছে।