নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন ছিল বুধবার। তাই তিনি ভক্তদের স্মৃতিতে আরও একবার ফিরে আসেন। তবে এরই মধ্যে তার সাবেক স্ত্রী গুলতেকিন খানের বিয়ের খবরে তিনি আবারও সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন। জানা গেছে, অক্টোবরের শেষের দিকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কবি আফতাব আহমেদকে বিয়ে করেন গুলতেকিন।
সম্প্রতি ঢাকাতেই ছোট পরিসরে গুলতেকিন-আফতাবের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। গুলতেকিনের বিয়ের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভাকাক্সক্ষীরা তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
হঠাৎ করে মেহের আফরোজ শাওনকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় ভালোবেসে সংসার পাতা হুমায়ূন-গুলতেকিন দম্পতির। তারপর থেকেই একেবারে আড়ালে চলে যান গুলতেকিন। সন্তানদের আঁকড়ে নীরবে নিভৃতে জীবন কাটিয়েছেন তিনি। নীরবতা কাটিয়ে কয়েক বছর আগে তিনি আলোচনায় আসেন কবিতার বই লিখে। এরপর নিয়ম করে লেখালেখি করছেন। তবে সবার মনেই কৌতূহল মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কী ভাবছেন তার ছেলেমেয়েরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বিয়েটা ছিল সবার সম্মতিক্রমেই। গুলতেকিন তার সন্তানদের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন নতুন করে জীবনটা শুরু করার জন্য। হুমায়ূন আহমেদ ও গুলতেকিন খানের ছেলে নুহাশ মায়ের বিয়ে নিয়ে নিজের মতামতও দিয়েছেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘মা শক্ত হাতে আমাদের বড় করেছেন। কখনো কোনো অভাব বুঝতে দেননি। মা সবসময়ই আমাদের কাছে আইডল। মা যখন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তখন আমার কোনো দুঃখবোধ ছিল না। বরং আমি অনেক খুশি হয়েছি। আমি মায়ের সঙ্গেই ছিলাম এ ব্যাপারে। তাদের জন্য সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি। আমি নিজে থেকে মায়ের বিয়ে দিয়েছি। আর এটা লুকানোর কিছু নেই। সামনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানও হবে। এটা নারীদের জন্য নতুন একটা দ্বার উন্মোচন হলো বলতে পারেন।’ গত সাত বছর ধরে আফতাব আহমেদের সঙ্গে গুলতেকিনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। আফতাব আগে বিয়ে করেছিলেন। সেই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে প্রায় ১০ বছর আগে। তাদের একমাত্র সন্তান লন্ডনে লেখাপড়া করছেন। আফতাব আহমদ অভিনেত্রী আয়েশা আখতারের ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন। গত ২৫ অক্টোবর গুলতেকিন তার ফেইসবুক পেজে যৌথ ঘোষণা শিরোনামে ‘এবার বাতাস উঠুক তুফান ছুটুক’ স্ট্যাটাস দেন।