বাংলাদেশ-রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের দ্বিতীয় বৈঠক

২য় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে চায় রাশিয়া

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও বিমান পরিবহন খাতে সহযোগিতা করবে রাশিয়া। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও কারিগরি খাতের উন্নয়নে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় ঋণ ও প্রযুক্তিগত সব ধরনের সহযোগিতা করবে  দেশটি। উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে একটি চুক্তি (প্রটোকল) সই হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এই চুক্তি সই হয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে জানিয়ে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নেও সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া।

বাংলাদেশ-রাশিয়া ইন্টার গভর্নমেন্টাল কমিশন অন ট্রেড ইকোনমিক, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশন  বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ। এটি বাংলাদেশ-রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের দ্বিতীয় বৈঠক। এ বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ এবং রাশিয়ার কৃষি উপমন্ত্রী ইলিয়া ভি. সেচটাকো।

বৈঠকে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ, বিমান খাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, ব্যাংকিং লেনদেন সহজীকরণ, ভূ-তাত্ত্বিক গবেষণা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও কারিগরি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব খাতে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বিজ্ঞান ও কারিগরি সহযোগিতাবিষয়ক প্রতিশ্রুতি দেয় রাশিয়া।

বৈঠক শেষে ইআরডি সচিব বলেন, চিংড়ি, চামড়া খাত নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব খাতে রাশিয়া সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। ইকোনমিক  জোনে রাশিয়া কী ধরনের সহযোগিতা দিতে পারে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলে রাশিয়ার সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ঘোড়াশালে বিদ্যমান দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উন্নয়নে রাশিয়া মত দিয়েছে।

মনোয়ার আহমেদ জানান, রাশিয়ার নবটেক কোম্পানি স্বল্প সুদে এলএনজি আমদানির সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখিয়েছে।

তিনি বলেন, সহজ ব্যাংকিং লেনদেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিষয়ে পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে রাশিয়ান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত  নেওয়া হবে।

রাশিয়ার কৃষি উপমন্ত্রী ইলিয়া ভি. সেচটাকো বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ ভালোভাবে এগিয়ে চলছে। এই প্রকল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যাপক সম্ভাবনা  দেখাচ্ছে। রাশিয়ান ফেডারেশন বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি  তৈরিসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উন্নয়নে কাজ করা হবে।

এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ব্যাংকিং লেনদেন সহজীকরণ পদ্ধতি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, মৎস্য ও পশুসম্পদ খাত, নিউক্লিয়ার অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার মান বাড়িয়ে দক্ষতার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতায় ঐকমত্যে পৌঁছেছে রাশিয়া ও বাংলাদেশ। কমিশনের তৃতীয় বৈঠক আগামী বছর মস্কোতে অনুষ্ঠিত হবে।