জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাত বছরের কারাদ-প্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ আবেদন করেন। আবেদনে হাইকোর্টের ওই আদেশ বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়ার জামিন চাওয়া হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী প্যানেলের সদস্য অ্যাডভোকেট সগির হোসেন লিয়ন বলেন, ‘হাইকোর্টের ওই আদেশ বাতিল চেয়ে জামিন চাওয়া হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন অসুস্থ। তিনি চলাফেরা করতে পারছেন না। এ ছাড়া বিচারিক আদালতে সাত বছরের সাজা হলে হাইকোর্টে জামিন পাওয়ার নজির রয়েছে, ঘটনার সঙ্গেও তার কোনো সম্পৃক্ততা নেইÑ এসব যুক্তিতে এই আপিল করা হয়েছে।’
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ৩১ জুলাই খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন খারিজের আদেশ দেয় হাইকোর্ট। এর আগে ৩০ এপ্রিল এ মামলায় খালেদার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে তাকে বিচারিক আদালতের দেওয়া অর্থদ- স্থগিতের পাশাপাশি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে কেনা সম্পত্তি জব্দের আদেশের ওপর স্থিতাবস্থা দেয় হাইকোর্ট।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত এই মামলার রায়ে খালেদা জিয়াসহ মোট চার আসামিকে সাত বছর করে কারাদ- দেয়। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ১০ লাখ টাকা করে অর্থদ- অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদ- ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে রাজধানীর কাকরাইলে কেনা সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়। রায়ে খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার একান্ত সহকারী সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার তখনকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে ১০ বছর করে কারাদ- দেওয়া হয়।
এর আগে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদ- দেয়। এই মামলায় হাইকোর্টে আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত বছরের ৩০ অক্টোবর তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর কারাদ- দেওয়া হয়। মামলায় সাজা থেকে খালাস ও জামিন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে করা আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) কেবিন ব্লকের ভিআইপি কেবিনে আছেন।