ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

সুন্দরবনের ৫ হাজার গাছ ক্ষতিগ্রস্ত

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ও সুন্দরবনের লড়াই প্রত্যক্ষ করেছে দেশবাসী। প্রবল এ লড়াই প্রতিহত করতে বুক পেতে দিয়েছে সুন্দরবন। অসামান্য আত্মত্যাগে রক্ষা পেয়েছে পুরো দেশ। নিজে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে দেশ ও দেশের সম্পদকে বাঁচিয়েছে জগৎ বিখ্যাত এই ম্যানগ্রোভ বন। বুলবুলের আঘাতে সুন্দরবনের প্রায় পাঁচ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে বনের অবকাঠামোরও। তবে অক্ষত রয়েছে বন্যপ্রাণী।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক কার্যালয় সূত্র জানায়, সুন্দরবনের মোট ৪ হাজার

৫৮৯টি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অঙ্কে সেটি ৫০ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪২ এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৬২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

পশ্চিম বিভাগের বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল আল মামুন দেশ রূপান্তরকে জানান, বুলবুলের আঘাতে বনের পশ্চিম বিভাগে মোট ৪ হাজার ২টি গাছের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ৮৭৪টি ছোট-বড় সুন্দরীগাছ এবং ১ হাজার ৫৩৮টি গেওয়া গাছ। বাকি গাছগুলো বিভিন্ন প্রজাতির। এসব গাছের বাজার মূল্য ৪১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। অবকাঠামোগত কিছু ক্ষতি হয়েছে। সেটির মূল্য ২৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তবে কোনো বন্যপ্রাণীর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

পূর্ব বিভাগের বন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, পূর্ব বিভাগে বিভিন্ন প্রজাতির ৫৮৭টি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অঙ্কে ওই ক্ষতির মূল্যমান ৮ লাখ ৬২ হাজার ৭৪২। এ ছাড়া অবকাঠামোগত ও জলযানসহ অন্যান্য স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেগুলোর বাজারমূল্য ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. মঈনউদ্দিন খান বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানার পর সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য সুন্দরবন পূর্ব এবং পশ্চিম বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সরেজমিনে বনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিভাগীয় কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করে জমা দিয়েছেন। ওই তালিকায় বিভিন্ন প্রজাতির কিছু গাছ এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। তবে কোনো বন্যপ্রাণীর ক্ষতি হয়নি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদের প্রফেসর দীলিপ কুমার দত্ত বলেন, ‘বিগত আইলা ও সিডরের মতো বুলবুলকেও বুক পেতে বাধা দিয়েছে সুন্দরবন। এই বন না থাকলে ঢাকা, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা লণ্ডভণ্ড হয়ে যেত। অঞ্চলগুলো একটি দ্বীপে পরিণত হতো। তাই সুন্দরবনকে মোহে বা কর্তব্যে ভালো না বেসে রক্ষাকবচ হিসেবে ভালোবাসা উচিত।’