এ সময়ের দর্শকপ্রিয় অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক। বিশ^বদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি নিয়মিত অভিনয় করছেন খণ্ড নাটকে। গত শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ইতি তোমারই ঢাকা’।
এ সিনেমা ও সমসাময়িক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
ইতি তোমারই ঢাকা...
একেবারেই ভিন্ন আইডিয়া নিয়ে ‘ইতি তোমারই ঢাকা’ সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে। এক টিকিটে দর্শক একটি সিনেমার মোড়কে ভিন্ন ভিন্ন ১১টি গল্প দেখতে পারছেন। অনেক চেনা মুখের অভিনয় একসঙ্গে উপভোগ করতে পারছেন। এখানে আমিও একটি গল্পের প্রধান চরিত্র করেছি। এতে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা রয়েছে। আমরা অপরের বিপদে খুব একটা এগিয়ে আসি না। কিন্তু কেন এগিয়ে আসি না তাই দেখানো হয়েছে। কেউ তো আর অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াতে গিয়ে নিজে হেনস্তার শিকার হতে চাইবে না। যারা সিনেমাটি দেখেছেন তারা বেশ প্রশংসা করছেন।
ডিসেম্বরে নতুন সিনেমায়...
দীপঙ্কর দীপনের নতুন সিনেমা ‘অপারেশন সুন্দরবর’-এ অভিনয় করতে যাচ্ছি। ডিসেম্বরের ১০ তারিখ থেকেই এর শ্যুটিং শুরু হবে। এতদিন নাটক-সিনেমায় আমার একটি ভালো ছেলের ইমেজ তৈরি হয়েছে। এই সিনেমায় দর্শক সেই ইমেজের বাইরে আমাকে দেখবেন। আমার চরিত্রটির কয়েকটি শেড রয়েছে। প্রথমে দেখা যাবে একেবারেই শ্রমিক পরিবারে আমার বেড়ে ওঠা। কিন্তু ঘটনাক্রমে দস্যু হয়ে যাই। আরও অনেক বিষয় আছে সিনেমাটিতে। আশা করি ভালো কিছু হবে।
মুুক্তির অপেক্ষায় প্রথম বাণিজ্যিক সিনেমা...
তথাকথিত বাণিজ্যিক সিনেমা বলতে যা বোঝায়, সেই ধরনের সিনেমার মধ্যে আমার অভিনীত প্রথম বাণিজ্যিক সিনেমা হলো ‘মিশন এক্সট্রিম’। আলোচিত সিনেমা ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর সিক্যুয়াল এটি। এই প্রথম সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে কাজ করেছি। ফলে নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। এ সিনেমায় ভিন্ন মনোজকে দেখবেন দর্শক।
চলচ্চিত্রে আরও ব্যস্ততা...
কয়েকটি সিনেমার কাজ একেবারে শেষ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘শনিবার বিকেল’ ও নুরুল আলম আতিকের ‘মানুষের বাগান’। এগুলো আর্টিস্টিক সিনেমা। তবে আমি অভিনেতা হিসেবে সব ধরনের সিনেমাই করতে চাই। আলাদা অভিজ্ঞতা হয়। বাণিজ্যিক সিনেমার ক্ষেত্রে একটা ভালো দিক হলো সহজে প্রচুর মানুষের কাছাকাছি যাওয়া যায়। এটাও শিল্পী হিসেবে খুব দরকারি।
অভিনয়ের পড়াশোনা কতটা সহযোগিতা করে?
অভিনেতা হিসেবে মঞ্চ, টিভি, সিনেমা কোনো ক্ষেত্রেই অভিনয়ের তেমন কোনো পার্থক্য নেই। সব ক্ষেত্রেই ক্যামেরার সামনে চরিত্র বুঝে অভিনয় করতে হয়। অভিনয়ে পড়াশোনা করে সবচেয়ে উপকার যেটা হয়, তা হলো একটি চরিত্র কীভাবে ফুটিয়ে তুলব সেটি সহজেই বুঝতে পারি। তবে সিনেমায় বাজেট ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট বেশি থাকে। সময় নিয়ে কাজ করা যায়।