গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর বিএনপির সম্মেলন (কাউন্সিল)। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল করতে পারছে না দলটি। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ হয় বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিল। সপ্তম কাউন্সিলের নির্ধারিত সময়ের পর সাত মাস চলে গেছে। তবে কবে নাগাদ কাউন্সিল হবে সে সিদ্ধান্ত নেয়নি দলটি। এর কারণ জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা চাই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়েই কাউন্সিল করতে। তাই তার জামিনের জোর প্রস্তুতি চলছে। কোনোভাবেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব না হলে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপের মাধ্যমে বিএনপির
কাউন্সিল সম্পন্ন করবেন।
বিএনপির সর্বপ্রথম জাতীয় কাউন্সিল হয় ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর। দ্বিতীয়টি ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, তৃতীয়টি ১৯৮৯ সালের মার্চে, চতুর্থটি ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বর, পঞ্চমটি ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর এবং সর্বশেষ ষষ্ঠ কাউন্সিল হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর দলের ২১তম কাউন্সিল করার ঘোষণা দিয়েছে। এ নিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা এখন উজ্জীবিত। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি কবে নাগাদ দলের কাউন্সিল করবেÑ সে বিষয়ে গতকাল শনিবার কথা হয় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিএনপির ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে সরকার। সভা-সমাবেশ করার জন্য জায়গার অনুমতি দেয় না। সেখানে কাউন্সিল করা তো খুবই কঠিন। তারপরও জেলা কমিটিগুলোর যে পুনর্গঠন কাজ চলছে তা শেষ করে দলের জাতীয় কাউন্সিল করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।
বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী কমিটির বিশেষ সভা করেন রাজধানীর একটি হোটেলে। সভায় খালেদা জিয়া দলের নেতাদের দিকনির্দেশনা দিয়ে যান, যাতে তার অবর্তমানে দলের মধ্যে কোন্দল বা বিভ্রান্তি তৈরি না হয়। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ের মতো ভাঙন যেন সৃষ্টি না হয়। তিনি ওই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়ার পর আর নির্বাহী কমিটির সভা হয়নি। অথচ দলের গঠনতন্ত্রের ১১ (চ) ধারায় বলা হয়েছেÑ প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রয়োজনবোধে যেকোনো সময় কমিটির সভা চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে ডাকা যেতে পারে। যে বছর জাতীয় কাউন্সিল হবে, সে বছর ছাড়া প্রতিবছর অন্তত একবার জাতীয় নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে।
তারা বলেন, নিয়মিত নির্বাহী কমিটির সভা না হওয়ায় দল পরিচালনায় সবাইকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা যাচ্ছে না। দলের সম্পাদকম-লী থেকে শুরু করে নির্বাহী সদস্যদের কার্যক্রমের মনিটরিং কিংবা কৈফিয়তের কোনো ব্যবস্থাও হচ্ছে না। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, দলে দ্রুত শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা উচিত। নিষ্ক্রিয়দের তালিকা করে বাদ দিয়ে দুঃসময়ের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের নির্বাহী কমিটিতে জায়গা দেওয়া উচিত। নইলে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন হোঁচট খাবে। দলও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নিষ্ক্রিয় নেতাদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির দপ্তর সংশ্লিষ্ট নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, জেলা কমিটিগুলোর পুনর্গঠন কাজ চলছে। এগুলো শেষ হলে দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। তবে সময়মতো করতে না পারলে বর্তমান নির্বাহী কমিটির নিষ্ক্রিয়দের বাদ দিয়ে যাদের কাজ করার আগ্রহ আছে তাদের দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করার বিকল্প চিন্তাভাবনা ও কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল খালেককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি আবদুল মালেককে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এর আগে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দলের স্থায়ী কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখনো স্থায়ী কমিটির পদ খালি আছে। এসব পদে শিগগিরই জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়ে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল করবে বিএনপি। আমরা চাইছি তার আগে বিএনপি চেয়ারপারসনকে জামিনে মুক্ত করতে। এর মধ্যে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং জেলা-উপজেলা কমিটির পুনর্গঠন কাজ শেষ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।