ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটি নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন
জমা দিতে পারছে না। প্রতিবেদনটি আজ রবিবার জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে না পারায় তা হচ্ছে না।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিতু মরিয়ম জানান, আজ রবিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার জাকির হোসেন চৌধুরী ও তূর্ণা নিশীথার লোকোমাস্টার তাহের উদ্দিন এবং সহকারী লোকোমাস্টার অপু দের সঙ্গে এখনো কথা বলতে না পারায় তদন্তকাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার জন্য রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান মিতু মরিয়ম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্টেশনমাস্টার জাকের হোসেন চৌধুরী রেলওয়ের নিজস্ব তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হওয়ার জন্য চট্টগ্রামে রয়েছেন। আর দুর্ঘটনার পর থেকে তূর্ণা নিশীথার লোকোমাস্টার তাহের উদ্দিন ও সহকারী লোকোমাস্টার অপু দের সন্ধান পায়নি তদন্ত কমিটি।
গতকাল শনিবার বিকেলে মিতু মরিয়ম জানান, স্টেশনমাস্টার চট্টগ্রাম থেকে আসার পর কথা হবে। যদি কথা বলতে না পারি তাহলে দেখা যাক কী করা যায়। আমরা রেলওয়েকে চিঠি দিয়েছি সবার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার জন্য। কারণ আমরা ব্যক্তিগতভাবে কাউকে খুঁজে বের করতে পারছি না। স্টেশনমাস্টার লগশিটে কী দিয়েছিলেন এগুলো কোনো কিছুই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পাইনি। সে জন্য কালকে (রবিবার) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া না-ও হতে পারে।
তবে জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা ইতিমধ্যেই দুদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এর আগে গত শুক্রবার বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগী পর্যায়ের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১২ নভেম্বর মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে সিলেট থেকে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম থেকে আসা ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ১৬ জন যাত্রী নিহত ও শতাধিক আহত হন।