রশি টেনে খেয়া পারাপার হাজারো মানুষের

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা খালের ওপর ভাসছে ছোট একটি ডিঙি। মাঝিবিহীন আটজন চলাচল উপযোগী এ নৌকার দুই প্রান্তে বাঁধা দুটি রশি। এ রশি টেনেই এপার ওপার পারাপার হতে হচ্ছে যাত্রীদের।

দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এভাবে পারাপার হতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে অনেকবার। এসব দুর্ঘটনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের ধানখালী গ্রামের চার হাজার মানুষ বিভক্ত হয়ে আছে লোন্দা খাল দ্বারা। গ্রামের মানুষের মধ্যে সেতু বন্ধনসহ যাতায়াত সুবিধায় স্থানীয়রা নিজস্ব অর্থায়নে লোন্দা খালে চালু করেন খেয়া নৌকা। মাঝিবিহীন এ নৌকার মেরামত কাজ করে থাকেন নিজেদের চাঁদার টাকায়।

তারা আরও জানান, বর্ষা মৌসুমে অথৈ পানিতে খালটি থৈ থৈ করলেও শুকনো মৌসুমে হাঁটু পানিতে কচুরিপানায় পূর্ণ হয়ে যায় খালটি। এ সময় খেয়া চলাচল হয়ে পড়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ।। তখন কলেজ বাজার হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হয় এলাকাবাসীকে। সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে দুবছর আগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লতিফ গাজী এলজিএসপি’র আওতায় সোমবারিয়া বাজার থেকে খেয়াঘাট পর্যন্ত ইটের রাস্তা এবং পাকা ঘাট নির্মাণ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, খালের একপাড়ে রয়েছে ইউনিয়নের ব্যস্ততম সোমবারিয়া বাজার। এ বাজারকে কেন্দ্র করে এপারে গড়ে উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদ, হাসপাতাল, পোস্ট অফিস, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার বেশ কয়েকটি অফিস, প্রাথমিক-মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা। প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এ খেয়া পার হয়েই তাদের প্রতিষ্ঠানে যায়।

সাবেক ইউপি সদস্য দুলাল জানান, চার নম্বর ওয়ার্ডের ধানখালী গ্রামে তেরো’শ ভোটার রয়েছে। এপারের চার’শ ভোটারকে খেয়া অথবা কলেজ বাজার ঘুরে গিয়ে ওপারের ছৈলাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হয়।

লোন্দা খালে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে গৃহবধূ ফিরোজা বেগম (৪৮) বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজসহ চিকিৎসা নিতে ঝুঁকিপূর্ণ এ খেয়া পার হতে হয়। এতে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় বৃদ্ধা ও গর্ভবতী মায়েদের।

কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম রাকিবুল আহসান বলেন, একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের মতো আর্থিক স্বচ্ছলতা উপজেলা পরিষদের নেই।