গোলাপি বলের সঙ্গে বন্ধুত্বের চেষ্টা

মোস্তাফিজুর রহমানের লেন্থ বলটা কাট করে স্টাম্পে হাওয়া দিয়ে বেরিয়ে যায়। আল-আমিন হোসেনের কিছুটা বাড়তি গতির বল মিডল স্টাম্পে পিচ করে অফ স্টাম্পের সঙ্গে স্পর্শের দূরত্ব রেখে যায়। বাঁহাতি ওপেনার ইমরুল কায়েস এরপর দুই স্পিনার নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলামের বলের লাইনে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যাটে লাগাতে পারেন না। এরপর ফিজের বলে আবার মিস। আল-আমিন মাথায় হাত দিয়ে হাসেন। একটুর জন্য উইকেট মেলে না। নাঈমের বেরিয়ে যেতে থাকা বলটাকে নামাতে গিয়ে বাইরের কানায় লাগিয়ে ইমরুল ফার্স্ট স্লিপে ক্যাচ দেন।

ইন্দোর টেস্ট তিনদিনে হেরে বসায় অন্তত একটা লাভ হয়েছে বাংলাদেশ দলের। কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ২২ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে গোলাপি বলে খেলার জন্য একটু বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া যাচ্ছে। গতকাল বিকেলে হোলকার স্টেডিয়ামের সেন্টার উইকেটে সেই প্রস্তুতির শুরুতে ব্যাটসম্যানদের অবশ্য বল বুঝতে খুব সমস্যা হলো। বাড়তি প্রস্তুতির দিনটাকে মূলত এই বোঝাবুঝির কাজে ব্যয় করলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান-বোলাররা। চলছিল গোলাপি বলের সঙ্গে বন্ধুত্বের চেষ্টা। ইমরুল নেটে ঢুকে প্রথম ৬টা বল

মিস করেছেন। কোনো চেষ্টা সফল হয়নি। লাল বলের চেয়ে গোলাপি বলে সুইং বেশি হয়। সেই সুইং ইমরুলকে স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি মোটে। এখানে প্রথম টেস্টের ঠিক আগের দুপুরে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির অবস্থাও শুরুতে এমন ছিল। অচেনা-অজানা গোলাপি বলকে প্রথমে বুঝতে না পারলেও দ্রুত চমৎকার শটে নিজেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন কোহলি। ইমরুল তার চেয়ে বেশি পরাস্ত। মনে হচ্ছিল, পিচ করে বলের গতিপথ কী হয় সেটা বেশি বোঝার চেষ্টা ছিল। শেষের দিকে বলের লাইনে যেতে পারছিলেন কিছুটা।

ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক ও ট্রেনার মারিও ভিল্লারায়ান থ্রোয়ারে শুরুতে গোলাপি বলে কিছুটা অভ্যস্ত করে তবে নেটে পাঠিয়েছিলেন ইমরুলকে। অধিনায়ক মুমিনুল হক তখন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর চোখের সামনে। সামান্য দূর থেকে একজন থ্রো করছিলেন। মুমিনুল ওটা শেষ করে ইমরুলের খালি করে দেওয়া কুক-মারিওর থ্রোয়িং নেটে ঢুকেছিলেন। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে বল বোঝার চেষ্টায় কাটল তার। শুরুতে তাকেও বেশ মিস করতে দেখা গেছে। ধাতস্ত হয়ে শট খেলেছেন। এর মধ্যে মুমিনুলকে আউট করার উৎসবও করেছেন কুক ও মারিও। আরও পরে পেস বোলিং কোচ শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট যোগ দিলেন ওখানে। থ্রোয়ারে বল করে গেলেন। ফিজ-তাইজুলরাও ব্যাটসম্যান হয়ে নক করে গেলেন।

তার আগে ল্যাঙ্গাভেল্ট মূলত ব্যস্ত ছিলেন মাঝের নেটে। ফিজ ও আল-আমিনকে নিয়ে। মাঠে আসলেও টেস্ট খেলা দুই পেসার আবু জায়েদ রাহী ও ইবাদত হোসেন বল করেননি। প্রথম টেস্টের জন্য ব্যাটিং উপদেষ্টার চুক্তি ছিল নিল ম্যাকেঞ্জির। দ্বিতীয় টেস্টের জন্য আর থাকেননি। ফিরে গেছেন। স্পিনারদের গোলাপি বলের কৌশল শেখাতে সাহায্য করছেন স্পিন বোলিং কোচ নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি ড্যানিয়েল ভেট্টোরি।

মুশফিকুর রহিমও নেটে ঢোকেননি। এদিন অনুশীলন ছিল ঐচ্ছিক। তবু মুমিনুল-ইমরুল-সাদমান-লিটন কুমার দাস নেটে ব্যাট করে গেছেন। মুশফিক মাঝের একটা উইকেট বেছে নিয়ে একজন স্টাফকে বল থ্রো করতে বলেছেন। ওখানে কিছুক্ষণ এই অনুশীলন করে শেষ করেছেন।

লিটনও পেস বোলারদের মুভমেন্টে ঝামেলায় ছিলেন। তবে দু একটা শট ভালো খেলে দিলেন। স্পিনারদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন। কয়েকবার তো তুলে মেরে মাঠের বাইরে পাঠিয়েছেন।

কোচ ডমিঙ্গো দিল্লিতে বলেছিলেন, গোলাপি বলে ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন সময় সূর্যাস্ত থেকে রাত নামার প্রথম সময়টা। ফ্লাডলাইট জ্বলে ওঠার পর ভারতীয় কোচ রবি শাস্ত্রি এসে দাঁড়ান বাংলাদেশের পাশের নেটে। আম্পায়ারের জায়গায়। ভারতীয় দলের কয়েকজন এসেছিলেন মাত্র। কোহলিরা অনুপস্থিত। বিশ্রামের সুযোগটা হেলায় হারাননি।

গোলাপি বলে এই অনুশীলনের দর্শক ছিলেন খোদ বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও। নিজেরটা শেষ করে অন্য প্রান্ত বা উইকেটের পেছন থেকে ভালো করে চোখ রেখেছেন। ইডেন গার্ডেনসে প্রতিপক্ষ শুধু বিশ্বের এক নম্বর দল ভারত তো নয়, প্রথমবার খেলতে যাওয়া বলটাও বটে। ইন্দোরে আজ শেষ দিন বাংলাদেশের। কৃত্রিম আলোতে অনুশীলন করবে আজ। আগামীকাল উড়াল কলকাতায়।