প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্প্রতি দিল্লি সফরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তির বিষয়ে জানতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। গতকাল রবিবার দুপুরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও খায়রুল কবির খোকন তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে চিঠিটি পৌঁছে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া চিঠি গ্রহণ করে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আমি আপনাদের চিঠি গ্রহণ করলাম। প্রধানমন্ত্রী এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরকারি সফরে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পরে আপনাদের চিঠিটি পৌঁছে দেব।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ ওয়াহিদা আক্তার, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার এবং সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস উপস্থিত ছিলেন।
আলাল আরও বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব স্বাক্ষরিত প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি চিঠি নিয়ে এসেছিলাম। ওই চিঠিতে বলা আছে, সম্প্রতি ভারত সফর ও অন্যান্য দেশে সফরকালীন সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যে চুক্তিগুলো হয়েছে সংবিধান অনুযায়ী সেই চুক্তিগুলোকে জনসম্মুখে প্রকাশ করা এবং চুক্তিগুলোর মধ্যে দেশের স্বার্থের হানিকর কিছু হয়েছে কি না সেটা পর্যালোচনা করার সুযোগ দেওয়া হোক।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কথা বলেছেন। কিন্তু এ সম্পর্কে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়নি এমনকি রাষ্ট্রপতির কাছেও এই ফাইল গিয়েছে কি না এ বিষয়ে সাধারণ জনগণ কিছু জানে না। কিন্তু সংবিধানের ১৪৫/ক ধারায় এটা সংসদে পেশ করার এবং জানার জনগণের অধিকার রয়েছে। জনগণের সমর্থিত দল হিসেবে বিএনপি এই দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হয়েছে। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। অবিলম্বে এটা সংসদের আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসা হোক। যাতে এটা নিয়ে জনগণ আলোচনার সুযোগ পায়।
সংসদে প্রতিনিধি আছে সেখানে উত্থাপন না করে এখানে কেন দিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে আলাল বলেন, জাতীয় সংসদে আমাদের যারা সদস্য আছেন তারা কয়েক দফা এ ব্যাপারে কথা বলার চেষ্টা করেছেন, নোটিস দিয়েছেন। তাদের সে নোটিস গ্রহণ করা হয়নি। কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমরা অনন্যোপায় হয়ে এখানে চিঠি দিলাম।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তির ডকুমেন্ট চেয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। গত শনিবার রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দুই-একদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পৌঁছানো হবে।