লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ভাঙতে যাচ্ছে। দলটির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমসহ কয়েক নেতা আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিক সম্মেলনে এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেবেন বলে জানা গেছে।
গতকাল রবিবার রাতে শাহাদাত হোসেন সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এলডিপি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেব সোমবার। সেখানে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। সারা দেশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তাদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেব।’
বিএনপিতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে সেলিম
আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা সোমবার কোনো ঘোষণা দেব না। নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।’ বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও জানান শাহাদাত হোসেন সেলিম। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো তার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বেলা ১১টায় এ সংবাদ সম্মেলন হবে বলে জানানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েক দিন আগে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ কোনো সম্মেলন ছাড়াই দলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করেন। নবগঠিত ওই কমিটিতে শাহাদাত হোসেন সেলিমের নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়। এলডিপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
এরপর দলটি থেকে পদত্যাগ করেন সাবেক হুইপ আব্দুল করিম আব্বাসী, সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ ও আব্দুল গণি। তারাসহ এলডিপির বেশিরভাগ নেতাকর্মী এলডিপি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে রয়েছেন বলে দেশ রূপান্তরকে জানান সেলিম।
এ ছাড়া অলি আহমদের নেতৃত্বে জাতীয় মুক্তিমঞ্চ তৈরি হওয়ার পর নেতাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ২০-দলীয় জোটের শরিক হয়েও মঞ্চের অনুষ্ঠানে বিএনপির সমালোচনা করায় ক্ষুব্ধ হন অনেকে।
চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৎকালীন সদস্য কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমসহ তৎকালীন জোট সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি দল থেকে পদত্যাগ করেন। একই দিন জোট সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদের যৌথ নেতৃত্বে এলডিপির আত্মপ্রকাশ ঘটে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই বি. চৌধুরী ও কর্নেল অলির মধ্যে সাংগঠনিক কারণে মতবিরোধ দেখা দিলে তারা আলাদা হয়ে যান।