‘আমার কোনো দুঃখবোধ নেই’

বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা রোজিনা। ৪০ বছরের সিনে যাত্রা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান

৪০ বছর পার করলেন চলচ্চিত্রে...

দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি বলেই আজ রোজিনা হতে পেরেছি। আমি প্রায় সব ধরনের চরিত্রেই কাজ করেছি। একক নায়িকা হিসেবে আমার যাত্রা শুরু ১৯৭৮ সালে ‘রাজমহল’ সিনেমা দিয়ে। এরপর ‘কসাই’ সিনেমার জন্য তো প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলাম। এ জীবনে প্রচুর পুরস্কার পেয়েছি, প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি। সেসব বলে শেষ করতে পারব না।’

 

কতগুলো সিনেমায় কাজ করেছেন? সে হিসাব কি রেখেছেন?

কতগুলো সিনেমায় কাজ করেছি তা সঠিক করে বলতে পারব না। আমার কিছু ভক্ত আছেন যারা আমার সিনেমাগুলো সংরক্ষণে রেখেছেন। প্রায় ২৫০-এর মতো একটা লিস্ট পেয়েছিলাম। কলকাতায়ও কাজ করেছি। আফসোস লাগে, আগে তো প্রিজার্ভ করার মতো তেমন সিস্টেম ছিল না এখানে। ফলে অনেক সিনেমারই নেগেটিভ এখন আর নেই। অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে। সেই সিনেমাগুলো এখন পাওয়া যায় না।

 

৪০ বছরের এই যাত্রায় কোনো দুঃখবোধ আছে কি?

না। কোনো দুঃখবোধ বা অপ্রাপ্তি কাজ করে না। তবে অভিনয়ের জায়গা থেকে হয়তো আরও ভালো ছবি করতে পারতাম। এমন কোনো ধরনের চরিত্র নেই যেটা করিনি। কিন্তু তারপরও অভিনয়ের ক্ষুধার শেষ নেই। যদি আরও ভালো ভালো ছবিতে কাজ করতে পারতাম! শিল্পী কতটা হতে পেরেছি জানি না, তবে চেষ্টা করেছি শিল্পী হতে। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল, সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি। মনে হয় কেউ বলতে পারবে না কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছি। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি আমার জন্য যেন কোনো পরিচালক-প্রযোজকের ক্ষতি না হয়। আমার ক্ষতি হলেও অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা করিনি। অভিনয়ের ক্ষুধা এখনো আছে। আমি যেহেতু অভিনয়শিল্পী, ফলে আমি এখনো মনে করি ভালো গল্প পেলে অভিনয় করব, এমনকি প্রযোজনাও করতে পারি।

 

বর্তমান সিনেমার অবস্থা খুবই খারাপ। উত্তরণের উপায় কী?

আগেরকার মতো প্রযোজক-পরিচালক নেই। এখন যারা আছে তাদের সিনেমার প্রকৃত উন্নয়ন নিয়ে মাথাব্যথা খুব কম। ফলে সিনেমার সামগ্রিক উন্নয়নের চিন্তা না করে সবাই ব্যক্তির উন্নয়ন নিয়ে ব্যস্ত। সিনেমার উত্তরণের উপায় তো সহজে বলা সম্ভব নয়। অনেক কিছুই এর সঙ্গে নির্ভর করে। ভালো পরিচালক, ভালো গল্প যেমন দরকার; তেমনি ভালো ক্যামেরাম্যান, ভালো শিল্পীও প্রয়োজন। এখন ধরেন, কয়জন তারকাকে দর্শক স্বপ্নের রাজা-রানী ভাবেন? সিনেমা দেখে আইডল ভাববে এমন নায়ক-নায়িকা কিন্তু খুব একটা দেখা যায় না। বলিউডেও অনেক তারকা আছেন যাদের দেখতেই মানুষ সিনেমা হলে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে শাবনূর-মৌসুমীর পর কিন্তু সেভাবে কাউকে দেখি না। তো সব দিক দিয়েই এগোতে হবে। আরও কিছু সমস্যা আছে সেগুলো নিয়ে আমরা ফারুক ভাইয়ের নেতৃত্বে আন্দোলনও করেছি। মন্ত্রীর কাছে গিয়েছি। এছাড়া হলের পরিবেশও ঠিক করতে হবে। হল কিন্তু ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। ফলে সমস্যা অনেক। নানা দিক নিয়েই কাজ করতে হবে। সিনেমার উন্নয়নে কাজ করার মতো মনমানসিকতা নিয়ে প্রযোজক-পরিচালকদের এগিয়ে আসতে হবে।

 

এই বয়সে এসেও তারুণ্য ধরে রেখেছেন...

কই আর ধরে রেখেছি (হাসি)। এটা উপরওয়ালার দান। আমি ছোটবেলা থেকেই চেষ্টা করেছি সবসময় স্বাস্থ্য সচেতন থাকতে। দীর্ঘদিনের অভ্যাসের ফলেই নিজেকে সুস্থ রাখতে পারছি। আর আমার ডায়েট বলতে খুব বেশি কিছু না। সকালে রুটি খাই, রাতেও রুটি খাই। দুপুরে সামান্য ভাত খাই। ভাত খুব কম খাই। আর খুব সকালে ওঠার চেষ্টা করি। এছাড়া সামান্য ব্যায়াম, ইয়োগা করি।