টাকার জন্য মাস তিনেক আগে এক স্কুল দপ্তরির কানের পর্দা ফাটানোর ঘটনায় প্রত্যাহার হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল
থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামিরুল ইসলাম এবার থানায় জব্দ থাকা একটি মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়েছেন। পরে গত রবিবার রাতে তাকে থানার ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তারা কথা বলে এনে থানা হেফাজতে রাখেন। এরপর গতকাল সোমবার বিকেলে তাকে হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা থেকে প্রত্যাহার হওয়ার পর রাঙ্গামাটি জেলার বরকল থানায় যোগ দেন এসআই জামিরুল। এরপর গত ১১ নভেম্বর তিনি ঢাকায় হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তরে যোগ দেন। বিভাগীয় একটি মামলায় সাক্ষী দিতে গত রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসে সদর মডেল থানা ভবনে জব্দ থাকা একটি মোটরসাইকেল নিয়ে পালান। কাউকে না বলে মোটরসাইকেল নেওয়ার সময় থানার ফটকে থাকা কনস্টেবল সালাউদ্দিন তাকে বাধা দেন। কিন্তু জামিরুল বাধা না মেনে মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যান। পরে রাতে পুলিশের ঊর্ধŸতন কর্মকর্তারা জামিরুলের সঙ্গে কথা বলে তাকে সদর মডেল থানা হেফাজতে নিয়ে আসেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল কবির জানান, এ ঘটনায় এসআই জামিরুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় জেলার সদর থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুর রহমান জানান, ওই এসআই বিকেল পর্যন্ত থানায় ছিল। পরে সন্ধ্যায় হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
খাটিহাতা হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ মাইনুল ইসলাম জানান, জেলা পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদনসহ এসআই জামিরুলকে হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ৩ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের খাকচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি মো. উবায়দুল্লাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করে তাকে মারধর করেন সদর মডেল থানার তৎকালীন এসআই জামিরুল ইসলাম। পরে আড়াই হাজার টাকা দিয়ে জামিরুলের হাত থেকে ছাড়া পান বলে অভিযোগ করেন ওই দপ্তরি। এ ঘটনায় ৫ আগস্ট জামিরুলকে প্রত্যাহার করা হয়।