মরদেহের ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) প্রতিবেদনে লেখা অক্ষর স্পষ্ট করে লিখতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের একটি কম্পোজ করা কপি ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে বলেছে আদালত। একটি হত্যা মামলায় এক
আসামির জামিনের আবেদনের ওপর শুনানিকালে এ বিষয়টি উঠে এলে গতকাল বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সব সিভিল সার্জনকে হাইকোর্টের এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী তপন কুমার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী। এর আগে ২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে চিকিৎসকদের হাতে লেখা ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) পড়ার উপযোগী ও স্পষ্ট অক্ষরে লিখতে নির্দেশ দিয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, কক্সবাজারের একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের একজন আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অস্পষ্ট হওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে এলে এ নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। আদালত এ হত্যা মামলায় স্কুলের একই শ্রেণির এক ছাত্রকে ছয় মাসের জামিন দেয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার হোসেন বাপ্পী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জামিন আবেদনের ওপর শুনানির সময় আদালত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেখতে চান। সেটি আজকে (গতকাল) আদালতে দাখিল করা হয়। কিন্তু প্রতিবেদনে মাথায় যে আঘাতের কথা বলা আছে তা একেবারেই অস্পষ্ট। এরপরই হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় যে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন স্পষ্ট ভাষায় লিখতে হবে এবং একটি কম্পোজ করা কপি প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। আদালত ওই শিশুকে জামিন দিয়েছে।’
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সাইফুলের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে তার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে ওই ছাত্রসহ কয়েকজন। পরদিন হাসপাতালে মারা যায় সাইফুল। এ ঘটনায় ২২ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
কক্সবাজারের শিশু আদালত গত ১২ সেপ্টেম্বর ওই ছাত্রের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে। এরপর হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানিকালে আদালত সাইফুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেখতে চায়। এরপর এ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হলে দেখা যায় প্রতিবেদনের অক্ষর অস্পষ্ট।