অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছেন না চা শ্রমিকের সন্তান

শত অভাবেও ১২ বছরের লেখাপড়া জীবনে হার মানেননি। অনেক প্রতিবন্ধকতায় লেখাপড়া থেকে মনযোগ সরেনি তার। নিজের মনোবল, মা-বাবার অক্লান্ত শ্রম, পাড়া-প্রতিবেশীদের সাহায্য নিয়ে পার করেছেন শিক্ষাজীবনের অনেকটা পথ।

তবে এখন মেধাবী ছাত্র সুজন রবিদাসের লেখাপড়া থমকে যাওয়ার মুখে। ভর্তির টাকার অভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছেন না। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হলেও ১৬ হাজার টাকা এখনো সংগ্রহ না করতে পারায় অনিশ্চিত তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ ডিসেম্বর ভর্তির শেষ দিন ।

এ অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড়িয়ে সুজন জানান, এত মানুষ লেখাপড়া করছে, সরকারসহ বিত্তশালীরা কতজনকে সাহায্য করছে। কিন্তু কয়েক হাজার টাকার জন্য কী থেমে যাবে আমার শিক্ষাজীবন! এত কষ্ট করে এ পর্যন্ত এসেছি বাবা-মার মুখে একটু হাসি দেখার জন্য। পরিবারকে সচ্ছল করার জন্য ।

সুজন রবিদাস মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউরা চা বাগানের  চা শ্রমিক নারায়ণ রবিদাসের ছেলে।

সুজনের বাবা নারায়ণ রবিদাস জানান, আমার পক্ষে তার লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয় । আমি চা বাগানে কাজ করে দৈনিক ১০২ টাকা আয় করি। আমার স্ত্রী, আমার বড় ছেলে এবং আমার আয় মিলে মাসে ৫ হাজার টাকা রোজগার হয়। এ আয়ে চলে ছয়জনের সংসার। সুজনকে নোয়াখালী নিয়ে যাওয়া-আসা এবং বইপত্র ও ভর্তির টাকাসহ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দরকার। ভর্তির পর তার থাকা-খাওয়া বাবদ প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা লাগবে। আমার ইচ্ছে থাকলেও আমি পারছি না। সরকার বা কোনো বিত্তবান এগিয়ে আসলে তবেই সম্ভব সুজনের লেখাপড়া নিয়মিত করা।

তিনি আরো জানান, আমাদের ঘরে অনেক দিন খাবার থাকে না। প্রায়ই অর্ধেক খাবার সবাই মিলে খাই। কিন্তু আমার ছেলে এত কিছুর মধ্যেও লেখাপড়া থেকে তার মনোযোগ নষ্ট করেনি। আমার বড় ছেলেও টাকার জন্য লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেনি। অষ্টম শ্রেণিতে উঠেই তার থামতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুজন খেয়ে না খেয়ে, অভাবের সংসারের মানুষের সাহায্য নিয়ে এসএসসিতে জিপিএ ৫ এবং এইচএসসিতে জিপিএ চার দশমিক ৫৮ পেয়েছেন।

সুজনের লেখাপড়ায় বিভিন্ন সময় সাহায্য করে এসেছেন স্থানীয় কালীঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালা।

তিনি জানান, সে খুবই মেধাবী। সে যদি কিছু অর্থনৈতিক সমর্থন পায় তাহলে জীবনে ভালো কিছু করতে পারবে।

তিনি জানান, ওই পরিবার কোনো ফোন ব্যবহারের সামর্থ্যও রাখে না।

সুজন রবিদাসকে সাহায্যের জন্য তিনি তার এ 01712454155 নম্বরে যোগাযোগ করতে বিত্তবানদের অনুরোধ জানান।