বেপরোয়া বাস: বিয়ের সানাই নয়, এখন শুধু কান্নার রোল

‘রুবেলের বিয়ের পর লিজাকে বিদায় দিতাম। কি অইলোরে আমারে না কইয়্যা চইল্যা গেল লিজা। লিজার বিয়েতে নতুন বাড়ি-ঘর তুলে দিতাম। তাও অইল না। এ কেমন নিয়তি খোদার’।

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বরযাত্রীবাহী মাইক্রো ও বাসের সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় বর রুবেল ইসলাম বেপারীর ও নিহত লিজার মা আয়েশা বেগম (৫০) এসব বলে বিলাপ করছিলেন।

এভাবেই মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কনকসার বটতলা গ্রামে বিয়ের বাড়িতে চলছে স্বজনদের কান্না ও আহাজারি। শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো কনকসার বটতলা গ্রাম। বরের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে জেলার শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর বাসস্ট্যান্ডে মাওয়াগামী স্বাধীন পরিবহনের বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোর মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হন।

পুলিশ জানায়, বেপরোয়া গতির বাস মুখোমুখি এসে মাইক্রোবাসে ধাক্কা দিলে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রাত পৌনে ৭টার দিকে নিহতদের মরদেহ লৌহজংয়ের কনকসার বটতলা গ্রামে বরের বাড়িতে আনা হলে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

বর রুবেল ইসলাম বেপারী ওই গ্রামের আব্দুর রশিদ বেপারীর ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে রুবেল ছোট। আর তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট বোন লিজা।

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা নিহত হন বরের বাবা ও বোন। মাইক্রোচালক বাদে নিহতরা সবাই বরের আত্মীয়-স্বজন। ওই বাড়িতে বিয়ের সানাই বাজার পরিবর্তে এখন চলছে কান্নার রোল।

জানা গেছে, মুদি দোকানদার রুবেলের সঙ্গে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের মিশা আক্তারের বিয়ের কথা হয়ে আসছিল দুই মাস আগে। শুক্রবার কাবিন হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে পৃথক দুটি মাইক্রোযোগে বরযাত্রীরা রওনা হন কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে।

বরের বন্ধু রনি, রাকিব ও আমিনুর জানান, বর রুবেলকে নিয়ে বন্ধুরা চড়েন একটি মাইক্রোতে। অপর মাইক্রোতে ছিলেন বরের বাবাসহ আত্মীয়-স্বজনরা। রওনার হওয়ার পর থেকেই মহাসড়কে বরের মাইক্রোটি সামনে ছিল।

বরের বন্ধুরা বলেন, ষোলঘর বাসস্ট্যান্ডের অদূরে বিপরীত থেকে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা বাসের সঙ্গে মাইক্রোর মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। নিমেষেই বিয়ের সব আনন্দ ভেঙে গেল। চোখের সামনেই মহাসড়কে পড়ে থাকতে দেখলাম লাশ আর লাশ।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন বরের বাবা আব্দুর রশীদ বেপারী (৬০), বোন লিজা (২২), লিজার মেয়ে তাবাসসুম (৪), ভাবি রুনা আক্তার (২২), রুনার ছেলে তাহসিন (৩), তাদের প্রতিবেশী কেরামত আলী (৭০), মফিুজুল (৬০), মাইক্রোবাসের চালক বিল্লাল মিয়া (২৮) ও রুমা আক্তার নামে এক নারী।

জেলার শ্রীনগর থানার ওসি হেদায়েতুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, স্বাধীন পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে অন্য একটি বাসকে ওভারটেক করলে বরযাত্রীদের মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।