মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মান না দিতে এক মুক্তিযোদ্ধার চিঠি

বানিয়াচং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে এক মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রতিবাদে উপজেলার সাগরদীঘির দক্ষিণপাড় গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. মঞ্জিল মিয়া মৃত্যুর পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান না জানানোর জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার দেওয়া ওই চিঠি থেকে জানা যায়, গত ১৯ নভেম্বর বেলা ১১টায় স্থানীয় গ্যানিংগঞ্জ বাজারে যানবাহনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছিলেন মতিউর রহমান। ওই সময় লোকজনের ভিড় জমলে তার নির্দেশে পুলিশ তাদের সরাতে চেষ্টা করে। এ নিয়ে জনতার সঙ্গে পুলিশের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জিল মিয়ার ছেলে ব্যাটারিচালিত টমটম চালক মোর্শেদ মিয়া (১৯) ও অনার্স পড়ুয়া আবুল বাশারকে (২৩) আটক করে। খবর পেয়ে মঞ্জিল মিয়া ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে তার ছেলেসহ আটকদের ক্ষমা করে দিতে সহকারী কমিশনার মতিউর রহমানকে অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় পাওয়ার পরও তাকে সম্মান না জানিয়ে আটকদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন।

মঞ্জিল মিয়া বলেন, ‘ঘটনার পর তিনবার সহকারী কমিশনারের অফিসে গিয়ে ক্ষমা চাইলেও তিনি আমার মুখের দিকেও তাকাননি। এতে একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অসম্মান বোধ করছি।’ এ ব্যাপারে মতিউর রহমান বলেন, ‘আটকরা রাষ্ট্রীয় কাজে বাধাদানসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেছে। তাদের আরও বেশি সাজা হতো। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার অনুরোধকে সম্মান জানাতে মাত্র ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছি।’ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুন খন্দকারের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলেও দাবি তার। মীমাংসার বিষয়টি অস্বীকার করেন মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জিল মিয়া। তিনি বলেন, ‘ইউএনও আমাকে তার অফিসে ডেকে পাঠান। রাত ৮টা পর্যন্ত বৈঠকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার আবদুল খালেকসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তখন মতিউর রহমান ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।’ তিনি বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান করায় জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কোনো পরিবেশ তৈরি করা হলে তা চিন্তা করে দেখব।’