ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার হুসোরখালী থেকে ইসলামপুর হুদাপাড়া পর্যন্ত সড়কের উন্নয়নকাজে নিমœমানের মালামাল ব্যবহার করার অভিযোগে উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভের। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এলজিইডি কর্তৃপক্ষ রাস্তাটি পাকা করার উদ্যোগ নিলেও ঠিকাদারের কারণে তা যথাসময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা দরপত্র অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করা অথবা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহেশপুর শহর থেকে দত্তনগর হয়ে জিন্নানগর বাজারের দিকে একটি সড়ক রয়েছে। এই সড়কের হুসোরখালী পাকা রাস্তা থেকে ইসলামপুর হুদাপাড়া অভিমুখে একটি কাঁচা রাস্তা রয়েছে। যে রাস্তাটি দিয়ে আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করে।
হুসোরখালী গ্রামের আমিনুল ইসলাম জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি পাকা করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ এলজিইডি কর্তৃপক্ষ রাস্তাটি পাকা করার উদ্যোগ নেয়। বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬০ লাখ ৭৭ হাজার ৯১১ টাকা। এরপর এলজিইডির দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স।
এলজিইডি মহেশপুর শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, এই কাজে বেড তৈরির পর ১০ ইঞ্চি বালু, ৬ ইঞ্চি খোয়া মিশ্রিত বালু, ৬ ইঞ্চি খোয়া ও ২৫ মিলিমিটার কার্পেটিং করার কথা। কিন্তু ঠিকাদার প্রথমেই নিমœমানের বালু দিয়েছেন। মাটি মিশ্রিত এই বালু ব্যবহার না করার জন্য বলা হলেও তিনি কথা শোনেননি। এরপর খোয়ার সঙ্গে বালু মিশ্রিত করতে গিয়ে নামমাত্র খোয়া দিয়েছেন। বেশির ভাগ বালুর ব্যবহার করেছেন। সেটাতে এলজিইডি আপত্তি দিলেও ঠিকাদার শোনেননি। ৬ ইঞ্চি খোয়া বিছিয়ে রোলার করার সময় নিমœমানের খোয়া ব্যবহার করেছেন। এই সব কারণে সংশ্লিষ্ট অফিসের পক্ষ থেকে কাজটি বন্ধ করার চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, তারা যখনই দেখেছেন কাজের মান খারাপ হচ্ছে তখনই কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। এ কাজে নিমœমানের বালু আর ইটের ব্যবহার দৃশ্যমান ছিল। এলাকার মানুষ প্রতিবাদও করেছেন। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো কথা না শুনে কাজটি করে গেছেন। ফলে কাজটি খুবই নিমœমানের হয়েছে। এগুলো যাচাই হওয়া জরুরি বলে গ্রামবাসী জানান।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক মো. জাকাউল্লাহ বলেন, ঝিনাইদহ শহরের ঠিকাদার আসাদ আমার প্রতিষ্ঠানের নামে এ কাজটি করছেন। নিমœমানের মালামাল ব্যবহারের কথা সঠিক নয়। অফিসের পক্ষ থেকে খোয়া নিয়ে আপত্তি করা হয়েছে। খোয়ার সাইজ বড় হওয়ায় তারা (এলজিইডি) কাজ বন্ধ করতে বলেছে। তাকে (আসাদ) খোয়া ছোট করে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে এলজিইডির মহেশপুর উপজেলা প্রকৌশলী সেলিম হোসেন জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে খুবই সমস্যায় আছেন। ঠিকাদারকে কাজের মান বাড়ানোর জন্য বলা হলেও বিষয়টির তিনি গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি বলেন, কাজের মান ভালো করতেই হবে, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।