ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে বিসিআইর সেমিনার

আমলাতন্ত্রের মানসিকতায় পরিবর্তন জরুরি

শিল্পায়নের জন্য বিশ্বব্যাংক নির্ধারিত সহজে ব্যবসা করার সূচকগুলোতে উন্নয়নই কেবল যথেষ্ট নয়। এর বাইরে উদ্যোক্তাদের পুঁজি, দক্ষ কর্মী, শিল্পে অবকাঠামোর অভাব দূর করতে হবে। পাশাপাশি আমলাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার মানসিকতা দূর করাও জরুরি। নতুবা বাংলাদেশ যে লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে তা অর্জন করতে পারবে না।

গতকাল শনিবার সহজে ব্যবসা করার বিষয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত এক সেমিনারের বক্তারা এমন মতামত প্রকাশ করেছেন।

রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, উদ্যোক্তারা সবক্ষেত্রে সহযোগিতা পাচ্ছে না, এ কথা সত্য। এসএমইকে গুরুত্ব দিতে হবে। দক্ষতাও বাড়াতে হবে। রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, পরিবেশের কথা বলে কারখানা স্থানান্তর, বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ বলেন, বাজেটে স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকার তহবিল দেওয়া হয়েছে। ৫ মাস চলে গেলেও কোনো অর্থ ছাড় হয়নি। তিনি বলেন, সরকারের কর্মকর্তাদেরও ঘুষ নেওয়ার বৈধতা নেই।

এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমলাতন্ত্র আগের তুলনায় অনেক পরিবর্তন হলেও বাধা রয়েছে। এখন সবচেয়ে জরুরি পদ্ধতিগত উন্নয়ন। সবাইকে মনে রাখতে হবে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড সুবিধার সময় বেশি নেই।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, সঠিক চিত্র তুলে ধরতে না পারার কারণে সহজে ব্যবসা করার সূচকে বিশ্বব্যাংক অনেক ক্ষেত্রে কম নম্বর দিয়েছে। আগামীতে নিশ্চয় এসব বিষয় বিবেচনায় নেবে।

বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমলাতন্ত্রের উচ্চপর্যায়ে পরিবর্তন হলেও সবক্ষেত্রে সমান অগ্রগতি হয়নি। ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকার ও ব্যবসায়ীকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, যাদের শত শত কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আছে, সরকার তাদের জন্য অনেক উদ্যোগ নিচ্ছে, ছাড় দিচ্ছে। কিন্তু এসএমইদের অনেককে ব্যাংক বেঁধে নিয়ে আসছে। এভাবে দেশ এগোবে না। এছাড়া তহবিলের অভাব, দক্ষতার অভাব, সহজে বিদেশি বিনিয়োগ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে হবে।

বিআইডিএসের জ্যেষ্ঠ গবেষক নাজনীন আহমেদ বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। এজন্য স্কুলপর্যায় থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের বড় উদ্যোক্তাদের ব্যাংকঋণে সব ধরনের ছাড় দেওয়া হবে, আর ছোট উদ্যোক্তাদের থেকে জোর করে ঋণ আদায় করা বন্ধ হবে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

হালকা প্রকৌশল শিল্প মালিকদের সংগঠনের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, তাদের শিল্পে প্রধান সমস্যা পুঁজির অভাব। এছাড়া নতুন প্রযুক্তি, পরিকল্পিত শিল্পপার্ক দরকার।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ১০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অবশ্যই উল্লেখ করার মতো। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধিই সব নয়। এখনো আয় বৈষম্য রয়েছে। আর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল দেশের সবখানে সবক্ষেত্রে সমানভাবে হয়নি। উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও কর্মসংস্থান হচ্ছে কম। দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি রয়েছে। আয় বৈষম্য রয়েছে। প্রবৃদ্ধির সুফল সবখানে পৌঁছাতে হবে। শিল্পের অবকাঠামোর ঘাটতি দূর করতে হবে।