কক্সবাজারের মহেশখালীতে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ১২টি বাহিনীর ৯৬ জন জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগর আত্মসমর্পণ করেছেন। গতকাল শনিবার উপজেলার কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণকারীরা অস্ত্র-গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে তুলে দেন।
পরে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা এখনো আত্মসমর্পণ
করেননি তাদের কেউ রেহাই পাবেন না।
এর আগে ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর র্যাবের মাধ্যমে প্রথম দফায় মহেশখালীতে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণকারী ৪৩ জলদস্যু কারামুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। তবে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে আত্মসমর্পণ করা ১০২ জন ইয়াবা কারবারি এখনো কারাগারে।
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে একে একে ১২টি বাহিনীর ৯৬ জন জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগর আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তারা ১৩টি রাইফেল, ১টি দেশীয় দোনলা বন্দুক, ১৪১টি একনলা বন্দুক এবং ২৮টি রাইফেলের গুলি ও ২৫৫টি বন্দুকের কার্তুজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জমা দেন। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়। মন্ত্রী তাদের প্রত্যেকের হাতে ফুল তুলে দেন।
পরে দুপুর দেড়টার দিকে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এখনো আত্মসমর্পণ করেননি, তারা এখনো সময় আছে দ্রুত আত্মসমর্পণ করুন। না হলে পরিণতি ভালো হবে না। কারণ প্রত্যেকের নাম-পরিচয় আমাদের হাতে চলে এসেছে। একই সঙ্গে তাদের সহায়তাকারী প্রভাবশালী গডফাদারদের তালিকাও হচ্ছে। কেউ রেহাই পাবেন না। যারা আজ আত্মসমর্পণ করছেন তাদের আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি। আপনাদের কর্মসংস্থানের জন্য সরকার প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে। মহেশখালী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ কক্সবাজারে পর্যটনের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হয়েছে। এরপর সারা বাংলাদেশে সন্ত্রাস, দস্যুমুক্ত অব্যাহত রয়েছে। আত্মসমর্পণকারী এসব দস্যুকে অনুদানও দিচ্ছে সরকার।’
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘যারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আত্মসমর্পণ করতে এসেছেন তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে। আর যারা এখনো আত্মসমর্পণ করেননি তারা সময় থাকতে আইনের আওতায় চলে আসুন। না হয় পরিণতি ভালো হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু। পুলিশ সবসময় জনগণের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। আর কেউ যদি পুলিশকে কোনো তথ্য দিতে চান, তাহলে ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে সাহায্য নিতে পারেন।’
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সাংসদ জাফর আলম, কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী) আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি গোলাম ফারুক, কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আশরাফুল আফসার প্রমুখ।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন আয়ুব বাহিনীর প্রধান আয়ুব; কালারমারছড়ার আলোচিত জিয়া বাহিনীর প্রধান জিয়াউর রহমান জিয়া ও মানিক; হামিদ বাহিনীর প্রধান আবদুল হামিদ; কালা জাহাঙ্গীর বাহিনী; করিম বাহিনীর প্রধান মাহমুদুল করিম; সিরাজ বাহিনীর প্রধান সিরাজ দৌলা চৌধুরী; স্বপন বাহিনীর প্রধান মান্নান দে স্বপন; মিন্টু বাহিনীর প্রধান আবদুল্লাহ মিন্টু; শিকদার বাহিনীর সোনা মিয়া, জমির উদ্দীন; মুজিব বাহিনীর প্রধান মজিবুর রহমান প্রকাশ শেখ মুজিব এবং কুতুবদিয়ার লেমশিখালীর কালু বাহিনীর প্রধান কালু প্রকাশ গুরা কালুসহ ৯৬ জন জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগর। তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠান শেষে আত্মসমর্পণকারীদের মহেশখালী থানায় করা অস্ত্র আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।