হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অভিযান চালিয়ে ১৩ রাউন্ড আরপিজি (রকেটচালিত গ্রেনেড) গোলা ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও র্যাবের যৌথ দল। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও র্যাব-৭-এর একটি দল টানা দুদিনের অভিযানে আরপিজিসহ এসব বিস্ফোরক উদ্ধার করে। বিষয়টি ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।
২০১৪ সালের জুনে তিন দফায় র্যাব সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অভিযান চালায়। ওই সময় রকেট লঞ্চার, মেশিনগান, মেশিনগানের গোলা, ট্যাংকবিধ্বংসী গোলাবারুদসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি বাঙ্কারেরও সন্ধান পায় র্যাব।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো ওই ক্ষুদে বার্তায় বলা হয়, ‘সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও র্যাবের একটি চৌকস অভিযানিক দল হবিগঞ্জের সাতছড়ি এলাকায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে পরিত্যক্ত
অবস্থায় ১৩ রাউন্ড আরপিজি গোলা এবং কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক পরবর্তী সময়ে বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হবে।’
র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মশিউর রহমান বলেন, গতকাল দুপুরে এ অভিযান শেষ হয়। এতে কেউ আটক হননি। গহিন বনের ভেতর থেকে উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ঘটনাস্থলে রাখা হয়েছে। এগুলো বহন করা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর বোম ডিসপোজাল টিমের মাধ্যমে তা ধ্বংস করা হবে। এ অস্ত্রগুলো কাদের জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো জানতে পারেনি কারা, কী উদ্দেশ্যে অস্ত্রগুলো মজুদ করেছে। এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত অব্যাহত আছে।’
স্থানীয় বন বিভাগ কর্মকর্তারা জানান, গত শুক্রবার সকাল থেকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে দিনভর অভিযান চলে। রাতে বন্ধ রাখার পর গতকাল সকালে ফের এ অভিযান শুরু হয়।
চুনারুঘাট থানার ওসি নাজমুল হাসান জানান, অভিযানের আগে থানায় এ ব্যাপারে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। গতকাল দুপুরে র্যাবের এসআই সোহেল এ ব্যাপারে থানায় একটি জিডি করেন। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ধ্বংস করতে তারা আদালতে আবেদন করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানের খবর পেয়ে আমিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য সেখানে গিয়েছিলাম। আমরা বনের বাইরে ছিলাম। তারা জানিয়েছেন, সাতছড়ি বনের প্রায় ৫ কিলোমিটার ভেতরে এ অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযান দলে প্রায় ৩০ জন সদস্য ছিলেন।’
সিলেট অঞ্চলটি সাধারণত র্যাব-৯-এর অধীনে, সেখানে অভিযানে র্যাব-৭-এর টিম কেন গিয়েছে জানতে চাইলে র্যাব-৭-এর অধিনায়ক বলেন, এটা র্যাব-৯-এর অপারেশনাল কার্যক্রমের আওতাধীন এলাকা হলেও র্যাবের যেকোনো ব্যাটালিয়ন যেকোনো এলাকায় অভিযান পরিচালনা করতে পারে।