সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তোবা গ্রুপের তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ৭ বছর পূর্তিতে নিহতদের স্মরণ করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও আহত শ্রমিকরা।
রবিবার সকাল থেকে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে দোষীদের শাস্তির দাবিতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে পুড়ে যাওয়া কারখানাটির সামনে ভিড় করেন তারা। তারা কারখানার মূল ফটকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়া, বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে আলাদা আলাদা মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তাজরীনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও নেতৃবৃন্দ তাজরীন ফ্যাশনের মালিক দেলোয়ার হোসেন ও তার সহযোগীদের ফাঁসির দাবি জানান। পরে নিহত শ্রমিকদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নিহতের স্বজনদের অনেকেই প্রিয়জনের কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
আয়োজিত মানববন্ধন-সমাবেশে অংশ নিয়ে নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিকরা জানান, তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের ৭ বছর পূর্ণ হলেও এখনো ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার এবং বিজিএমইএ। এমতাবস্থায় অনাহারে অর্ধাহারে বিনা চিকিৎসায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলেন, ২৪ নভেম্বর তাজরীন ফ্যাশন কর্তৃপক্ষ প্রধান ফটক আটকে দিয়ে ১১৩ জন শ্রমিককে কারখানার ভেতরে পুড়িয়ে মেরেছিল। এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল, যা বিভিন্ন তদন্তে প্রমাণ হয়েছে। কিন্তু সরকার এত দিনেও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারায় সারা দেশের শ্রমিকদের ভেতরে আগুন জ্বলছে। অবিলম্বে কারখানা মালিক দেলোয়ারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।
এদিকে বেলা এগারোটার দিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার (পরিচালক) সানা শামীনুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাজরীনের অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে কারখানার সামনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় পুলিশ সুপার সানা শামীনুর রহমান বলেন, তাজরীন ফ্যাশন অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহত শ্রমিকদের সরকার এবং বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাজরীনের ঘটনায় দায়েরকৃত পৃথক দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। শিল্প পুলিশও এই মামলা পর্যবেক্ষণ করছে।
শিল্প কারখানা পরিচালনাকারীদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার আরও বলেন, শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যারা জড়িতরা যেন আইন মেনে যথাযথভাবে কারখানা পরিচালনা করেন। যাতে করে অদূর ভবিষ্যতে তাজরীন দুর্ঘটনার মতো কোন ঘটনা না ঘটে, আর যেন কোন শ্রমিক প্রাণ না হারায়, আর যেন কোন মায়ের বুক খালি না হয়। তবে তাজরীন কর্তৃপক্ষ আরেকটু সচেতন হলে হয়তো এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এড়ানো সম্ভব হতো। তাই কর্তৃপক্ষকে কারখানার সেফটি ও সিকিউরিটির বিষয় গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আয়োজিত মানববন্ধন-সমাবেশে বাংলাদেশ বস্ত্র পোশাক শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সরোয়ার হোসেন, জাতীয় শ্রমিক লীগ আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমাম হোসেন, তৃণমূল গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আলমগীর হোসেন লালনসহ জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা সহায়তা ট্রাস্ট ও টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার ফেডারেশনসহ অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মরছে তাজরীনের আহত শ্রমিকরা