সোনাগাজী সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিয়েছে কলেজ কর্র্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গতকাল রবিবার দুপুরে ১১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০৬ জনকে ফেরত দেওয়া হয় বাড়তি টাকা।
এর আগে গত শনিবারও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মহিউদ্দিনের কার্যালয় অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন সেøাগান দেয়। কয়েক দিন ধরে অনিয়মিত শিক্ষার্থীরা তাদের কাছ থেকে কর্র্তৃপক্ষের অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করে আসছিল। শিক্ষার্থীদের অবরোধের কবলে পড়ে তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে বাধ্য হন অধ্যক্ষ। এ সময় তিনি আদায় করা অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান।
এর আগে গত আগস্ট মাসে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সময় ভর্তি ফিসহ আনুষঙ্গিক খরচের সঙ্গে ৪৪৪ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২৮০ করে বাড়তি টাকা নেয় কলেজ কর্র্তৃপক্ষ। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে টাকাগুলো ফেরত দেওয়া হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, সোনাগাজী সরকারি কলেজ থেকে গত বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের আগামী বছর নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিতে সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে কর্র্তৃপক্ষ। গত বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ৩৬০ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১৪৯ জন। ইতিমধ্যে অকৃতকার্য ২১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১৬ জনের কাছ থেকে ৮৫০ টাকা করে অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে। ২১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের টেস্টে যারা টাকা দিয়েছে শুধু তারাই নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া যেসব শিক্ষার্থী গত বছর টেস্ট পরীক্ষায় সব বিষয়ে ফেল করে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তাদের কাছ থেকেও শুধু টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ২ হাজার ৪৬৫ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, গত ২৮ অক্টোবর সোনাগাজী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মহিউদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি নোটিসে বলা হয়, যেসব শিক্ষার্থী ২০১৯ সালে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের মধ্য থেকে যারা ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক তাদের তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য বিভিন্ন খাত তুলে ধরে ছাত্রদের ৮৫০ ও ছাত্রীদের ৬১০ টাকা এবং সব বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ১ হাজার ৩০ টাকা কলেজে জমা দিতে হবে। কলেজ কর্র্তৃপক্ষের আদেশ পেয়ে অকৃতকার্য প্রায় ১১৬ জন শিক্ষার্থী নির্ধারিত ফি জমা দেয়। তবে টাকা নেওয়ার সময় বোর্ডের কোনো ধরনের আদেশপত্র দেখাতে না পারায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করে। এ ছাড়া গত বছর রেজিস্ট্রেশন করেও পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া সাতজন শিক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে ২ হাজার ৪৬৫ টাকা করে কলেজ অফিসে জমা দিয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮৫০ টাকা করে নেওয়ার বিষয়ে বোর্ডের কোনো আদেশ বা নীতিমালা নেই। কিন্তু এটা নেওয়া হয়।