আগামীতে সভা-সমাবেশ করতে কারও অনুমতি নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রবিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণঅভ্যুত্থান ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাবস্থায় খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। তাই গণঅভু¨ত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে হবে এবং খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আর এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে।
বিএনপির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে দুপুর থেকেই ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের পদচারণা আর সেস্নাগানে মুখর হয়ে ওঠে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকা। এ সময় নেতাকর্মীদের মুখে সেস্নাগান ছিল– ‘দেশনেত্রীর মুক্তি চাই, দিতে হবে’, ‘এক জিয়া লোকান্তরে লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে’, ‘শেখ হাসিনা গদি ছাড়ো, ছাড়তে হবে’।
সমাবেশে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে প্রায় ২০ মাস ধরে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি কোনো কিছুতে জড়িত না থাকার পরও শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে। অথচ একই সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে যে মামলা দেওয়া হয়েছিল সব মামলা তুলে নেওয়া হয়েছে। আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা ছিল চারটি, যা এখন হয়েছে ৩৭টি। আর প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা ছিল ১৫টি, যার সব তুলে নেওয়া হয়েছে। সরকার জনগণের ভোট ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সমাবেশ করার জন্য সকাল ১০টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অনুমতি দিয়েছে। আগামীতে আমরা কোনো সভা-সমাবেশ করার জন্য কোনো ধরনের অনুমতি নেব না। যখনই প্রয়োজন হবে তখনই সভা-সমাবেশ করবে বিএনপি। কারণ এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, আমাদের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য, গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি করা এবং স্বৈরশাসকের পতন ঘটানো। এ সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার নয়। জনগণের সমর্থন ছাড়া তারা অবৈধভাবে জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেই গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজনে আবার বুকের রক্ত দেব। এখন থেকে অন্য কোনো সেস্নাগান না দিয়ে সেস্নাগান হবে– এ সরকার নিপাত যাক। দেশ পরিচালনায় সরকার ব্যর্থ দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা হাজার হাজার পুলিশ নিয়োগ দিচ্ছে। কিন্তু দেশে ছিনতাই-রাহাজানি কমছে না। তারা সড়ক নিয়ে আইন করেছে অথচ রাস্তায় প্রতিদিনই মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আজকে ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, শেয়ার মার্কেট লুট করে নিয়েছে, ব্যাংক চলছে না। বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়। মিডিয়াকেও দখল করে নিয়েছে।
‘বিএনপিপাগল’ রিজভী হাওলাদারের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রিজভী আমাদের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে সবসময়ই আমাদের এ কার্যালয়ে থাকতেন। সেই রিজভী অনশন করা অবস্থায় গত শনিবার কার্যালয়ে মারা গেছেন। তাকে সবসময়ই কার্যালয়ে দেখতাম বুকের মধ্যে ‘গণতন্ত্রের মায়ের মুক্তি চাই’ লেখাটা লিখে রাখতেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি ও তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস জানান, গত শনিবার বরিশালে মহানগর বিএনপির সমাবেশ শেষে তার গাড়িবহরের এক গাড়ি থেকে দলের বরিশাল বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তিনি বলেন, সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ধরতে পারে না। অথচ সরকারের সমালোচনা করার অপরাধে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় বলেন, এ সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে না। তাই সরকারের কাছে মুক্তি না চেয়ে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলন করেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ¨ানী প্রমুখ।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত বছর ৮ ফেব্রম্নয়ারি থেকে কারাবন্দি খালেদা জিয়া। অসুস্থ হয়ে পড়ায় সর্বশেষ গত ১ এপ্রিল তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।