ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চারটি সহযোগী সংগঠনের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন শেষ হয়েছে। সংগঠনগুলোর মধ্যে গত ৬ নভেম্বর কৃষক লীগের, ৯ নভেম্বর শ্রমিক লীগের, ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগের এবং সর্বশেষ ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সম্মেলন হয়েছে। এসব সম্মেলনে শুধু এসব সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে সংগঠনগুলোকে সাত দিন করে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে সে সময়ের মধ্যে তিনটি সহযোগী সংগঠনেরই কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে গত রবিবার রাতে যুবলীগের নতুন দুই নেতা গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি দ্রুত সব সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচিত নতুন নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে দেশ রূপান্তরকে তারা বলেন, আমরা চাই না কোনো বিতর্কিত নেতা কমিটিতে আসুক। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি
শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান মাথায় রেখে আমরা নির্ভুল কমিটি করতে চেষ্টা করছি। তাই কিছু সময় নিতে হবে এবং আমরা তা নিচ্ছি। এর মধ্যে যুবলীগ ছাড়া সব সংগঠনই সাত দিন সময় পার করে ফেলেছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর দেখা পায়নি। সংগঠনগুলোর নবনির্বাচিত নেতারা দেশ রূপান্তরকে আরও জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খসড়া কমিটিগুলো জমা দেবেন। তবে এখনো খসড়া প্রস্তুত করতে পারেনি স্বেচ্ছাসেবক লীগ। শ্রমিক লীগ খসড়া কমিটি শেখ হাসিনার কাছে জমা দিয়েছে জানালেও কৃষক লীগ দিতে পারেনি। তবে তারা খসড়া কমিটি চূড়ান্ত করেছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছে।
কৃষক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি বলেন, ১১১ সদস্যের একটি খসড়া কমিটি আমরা করেছি। দুয়েক দিনের মধ্যেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার হাতে আমরা জমা দেব। ওই খসড়া কমিটি দেখে তিনি চূড়ান্তভাবে সম্মতি দিলে অল্প সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রেসে দিয়ে দেব আমরা। তিনি বলেন, চলমান শুদ্ধি অভিযান মাথায় রেখে আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভুল যাতে কম হয় সেই চেষ্টা করছি আমরা। তাই কিছুটা দেরি হচ্ছে।
জানতে চাইলে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কেএম আজম খসরু দেশ রূপান্তরকে বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ৩৫ সদস্যের। আমাদের সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছিল কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে। আমরা তিন দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির একটি খসড়া আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিয়েছি। তিনি বলেন, সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকায় খসড়া তালিকায় এখনো চূড়ান্ত সম্মতি দিতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী। আজম খসরু বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আমরা কমিটি নিয়ে পরামর্শ করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছেড়ে দিলে আমরা প্রেসে দিয়ে দেব।
এ প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সম্মেলন অধিবেশনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাত দিনের মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা খসড়া এখনো চূড়ান্ত করতে পারিনি। কারণ নানা বিবেচনা মাথায় রেখে আমরা পরিচ্ছন্ন একটি কমিটি উপহার দিতে চাই। বিতর্কিত কাউকে নেতা বানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই না। তিনি বলেন, আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া নিয়ে অনেকদূর এগিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে খসড়া কমিটি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেব। এরপর উনি দেখেশুনে ছেড়ে দিলে দ্রুত সময়ে কমিটি ঘোষণা করে দেব। নির্মল রঞ্জন বলেন, সামনে মহানগর আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এর জন্যও আমরা কিছু সময় নিতে চাই। দেখা গেল আমরা স্বেচ্ছাসেবক লীগে কাউকে নেতা বানালাম তিনি আবার আওয়ামী লীগেও পদ পেয়ে গেলেন। এটা এক ধরনের জটিলতা তৈরি করবে। তাই একটু সময় নিচ্ছি। যাচাই-বাছাই চালিয়ে যাচ্ছি।
যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হাসান খান নিখিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের সম্মেলন গেল মাত্র চার দিন হলো। এখনো পূর্ণাঙ্গ খসড়া কমিটি করতে পারিনি। কাকে নেওয়া যায়, কাকে দিয়ে সংগঠন আরও গতিশীল হবে সেসব পর্যালোচনা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে খসড়া কমিটি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেব। সেখান থেকে ছেড়ে আসা মাত্রই ঘোষণা করা হবে।