৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ

চট্টগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ে ৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান বাবুলসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সিরাজুল হক বাদী হয়ে গতকাল সোমবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেনÑ সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. মো. আব্দুর রব, সিনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ডা. বিজন কুমার নাথ, জুনিয়র কনসালট্যান্ট

 (অর্থো-সার্জারি) ডা. মইন উদ্দিন মজুমদার, সরঞ্জাম সরবরাহকারী বেঙ্গল সায়েন্টেফিক অ্যান্ড সার্জিকেল কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. জাহের উদ্দিন সরকার, মেসার্স আহম্মদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মুন্সী ফারুক হোসেন ও এএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফতাব আহমেদ।

মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সিরাজুল হক দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে ৯ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৪০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জন্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ আইটেম ভারী চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়। ওই সময় সরঞ্জাম ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ২০১৬ সালে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তৎকালীন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত ওই তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য ছিলেন তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান ও বিএমএ প্রতিনিধি ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী। কমিটির তদন্তে উক্ত কেনাকাটায় বড় ধরনের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের চিত্র উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ব্যবস্থাপনা কমিটি।