রাজধানী ঢাকাসহ এর আশপাশের এলাকায় বায়ুদূষণের কারণ ও করণীয় নিয়ে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার যেসব ইটভাটা পরিবেশ দূষণ করছে সেগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঢাকায় অব্যাহত বায়ুদূষণ নিয়ে করা একটি আবেদনের প্রেড়্গিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এসব আদেশ দেয়। জনস্বার্থে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ সম্পªতি এ সম্পূরক আবেদনটি করেন। এর আগে একই সংগঠনের এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট গত জানুয়ারিতে বায়ুদূষণ রোধে অন্তর্বর্তীকালীন কিছু নির্দেশনা দিয়েছিল।
গতকাল আদেশে বলা হয়েছে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে কমিটিতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের দুই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কতৃ©পক্ষ (বিআরটিএ) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) চেয়ারম্যান এবং প্রয়োজনবোধে একজন পরিবেশ বিশেষজ্ঞকে রাখতে বলা হয়েছে। কমিটিতে এক মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত, উড়াল সড়ক ও ওয়াকওভারের যেসব স্থানে ময়লা, ধুলো, কাদা, বর্জ্য ও আবর্জনা জমিয়ে রাখা হয়, প্রয়োজবোধে অতিরিক্ত লোকবলের মাধ্যমে সেসব সাত দিনে অপসারণ করতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম। উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা।
ঢাকায় বায়ুদূষণ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে প্রতিকার চেয়ে গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এইচআরপিবির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেয়। ওই সময় হাইকোর্টের তিন দফা অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনায় ছিল– ঢাকা শহরে যাদের কারণে বায়ুদূষণ হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সপ্তাহে দুই দিন পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা, যেসব জায়গায় উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ চলছে এবং যেসব জায়গা থেকে ধুলোবালির উৎপত্তি হচ্ছে সেসব জায়গা ১৫ দিনের মধ্যে ঢেকে কাজ করার পদক্ষেপ নেওয়া এবং যেসব স্থানে ধুলাবালি সৃষ্টি হচ্ছে সেখানে আদেশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সকাল ও বিকেলে দুই বেলা পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা। আদেশ যথাযথভাবে পালন না হওয়ায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সিইও এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালককে তলবের পাশাপাশি একাধিকবার উষ্মা প্রকাশ করেছিল হাইকোর্ট।