চলে গেলেন কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন (৭৬)। গত সোমবার মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি এক ছেলে রেখে গেছেন। রবিউল হুসাইন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্রের ট্রাস্টি, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন। রবিউল হুসাইনের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার শোকবার্তায় বলেন, ‘তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন দেশপ্রেমিক ও বহুগুণে গুণান্বিত এক ব্যক্তিকে হারাল।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রবিউল হুসাইনের ধানমণ্ডির বাসায় যান। প্রায় আধঘণ্টা কবির বাসায় উপস্থিত থেকে তিনি তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি কবির পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান ও সান্ত¡না দিয়ে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী জানান, বুধবার সকাল ১০টায় কবি রবিউল হুসাইনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বাংলা একাডেমিতে। তারপর সকাল সাড়ে ১০টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট তার মরদেহ নিয়ে যাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এরপর মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
রবিউল হুসাইন এক ধরনের বোন ক্যানসারে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন বিএসএমএমইউর অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক। তিনি জানান, ১৬ নভেম্বর রবিউল হুসাইন বিএসএমএমইউতে হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক মাসুদা বেগমের অধীনে ভর্তি হন। ১৮ নভেম্বর তার চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বিএসএমএমইউতে ভর্তির আগে তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।’
রবিউল হুসাইন ১৯৪৩ সালে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় জন্মগ্রহণ করেন। ভাষা ও সাহিত্যে অবদান রাখায় ২০১৮ সালে একুশে পদক পান। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, কবিতালাপ পুরস্কার, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কারসহ অসংখ্য স্বীকৃতি লাভ করেছেন রবিউল হুসাইন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষকও ছিলেন তিনি।
রবিউল হুসাইনের লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে– ‘কী আছে এই অন্ধকারের গভীরে’, ‘আরও ঊনত্রিশটি চাঁদ’, ‘স্থিরবিন্দুর মোহন সংকট’, ‘কর্পূরের ডানাঅলা পাখি’, ‘আমগ্ন কাটাকুটি খেলা’, ‘বিষুবরেখা’, ‘দুর্দান্ত’, ‘অমনিবাস’, ‘কবিতাপুঞ্জ’, ‘স্বপ্নের সাহসী মানুষেরা’, ‘যে নদী রাত্রির’, ‘এইসব নীল অপমান’, ‘অপ্রয়োজনীয় প্রবন্ধ’, ‘দুরন্ত কিশোর’, ‘বাংলাদেশের স্থাপত্য সংস্কৃতি’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘গল্পগাথা’, ‘ছড়িয়ে দিলাম ছড়াগুলি’।