পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২২ বছর পর অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল কাি•ক্ষত পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের বিরোধপূর্ণ ভূমির শুনানি। আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে পাহাড়ের বিরোধপূর্ণ ভূমি নিয়ে শুনানি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হক। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাঙ্গামাটি সার্কিট হাউজে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সভা শেষে তিনি এসব কথা জানান।
পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি (অবসরপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ার উল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা), চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা ও ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সচিব আলী মনসুর।
তবে বৈঠকে কমিশনের অন্য সদস্য খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, মং রাজা, বোমাং রাজা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার বা তাদের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
সভা শেষে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বলেন, চুক্তির ২২ বছর পরও ভূমি ব্যবস্থাপনা জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত হয়নি। আশা করছি কমিশন অতিসত্বর এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। তিনি বলেন, ভূমির ওপরই এখানকার প্রশাসন, মানুষ, জীবনধারা সবকিছু নির্ভর করছে। তাই এই ভূমি সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে জটিলতার সমাধান সম্ভব।
চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, বিধিমালা প্রণয়নে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে যেভাবে সুপারিশ করা হয়েছে, সেভাবে অনুসরণ করা হলে দ্রুতই কমিশনের কার্যক্রম শুরু ও সমস্যার সমাধান হবে। সভা শেষে জেলা পরিষদের নতুন ভবনে ভূমি কমিশনের শাখা অফিস পরিদর্শন করেন কমিশনের নেতারা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষে¨ ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে ২০০১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন করা হয়। আইনটি ২০১৬ সালে সংশোধন করা হয়। আইন সংশোধনের পর অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ার উল হককে কমিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এক দফা মেয়াদ শেষে ফের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে একাধিক চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হলেও সদস্যদের অসন্তোষের কারণে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির কাজ এগোতে পারেনি। আইনটি সংশোধনের পর উভয় পক্ষ সম্মত হলে শুরু হয় কমিশনের কার্যক্রম। শুরুতে বিরোধপূর্ণ ভূমিগুলোর মালিকদের কাছ থেকে দুই দফায় তিন পার্বত্য জেলায় ৩ হাজার ৯৩৩টি গ্রহণ করা হয়।