ব্যাংকঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোর দিচ্ছেন বারবার। অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সরকারের নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত এ বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করলেও তা কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। বছর দুই আগে বেসরকারি ব্যাংক মালিকরা এক অঙ্কের সুদহার কার্যকরের কথা বলে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার পরও তা বাস্তবায়ন না করায় ক্ষোভ রয়েছে সরকারের শীর্ষ পর্যায়েও।
এ অবস্থায় ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার বিষয়ে আবারও দেশের সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে বৈঠকে বসছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্তসহ মোট ১১টি ব্যাংক এক অংকের সুদহার বাস্তবায়ন করেছে। বেসরকারি খাতের ৩৭ ব্যাংকের ঋণের সুদহার এখনো ১৩ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে। এ পরিপ্রেক্ষিতেই ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও এমডিদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন অর্থমন্ত্রী। আগামী রবিবার পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যাংক মালিকরা সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা, বাণিজ্যিক ব্যাংক কর্র্তৃক কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত নগদ জমা বা সিআরআর সংরক্ষণের হার কমানো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ধারের নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থা রেপোর সুদহার কমিয়ে নিয়েছে।
এসব সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যই ছিল সুলভ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা। নানা সুবিধা পাওয়ার পর ব্যাংকের উদ্যোক্তারা গত বছরের জুনে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের ঘোষণা দেন এবং একই বছরের ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা জানান। কিন্তু গত ১৬ মাসে বেসরকারি ৪১ ব্যাংকের মধ্যে মাত্র তিনটি ব্যাংক এক অঙ্কের ঋণের সুদহার কার্যকর করেছে। গত বছরই সরকারি খাতের আটটি ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনে।
সর্বশেষ গত ৫ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও ব্যাংকঋণের সুদহার এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেন।