দেশের সাত জেলার মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার এবং গবেষণাগার আধুনিকায়ন করতে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে প্রকল্পটি বাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। কমিশন অনুমোদন দিলে শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। একনেক অনুমোদন দিলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এই ব্যয়ের পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে মেটানো হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ, বগুড়া, খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, রাঙ্গামাটি ও পটুয়াখালী জেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইনস্টিটিউটের অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার এবং গবেষণার আধুনিকায়ন, ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন কেন্দ্র ও উপকেন্দ্রের বিদ্যমান পুকুরগুলোর রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ এবং সংস্কার ও গবেষণা জোরদারকরণের লক্ষ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক দ্রবাদি ও যানবাহন কেনার লক্ষ্যে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানায় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।
ইনস্টিটিউটের ময়মনসিংহের স্বাদু পানি কেন্দ্র, চাঁদপুরের নদী কেন্দ্র, কক্সবাজারের সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং সান্তাহারে প্লাবনভূমি উপকেন্দ্র মৎস্য অধিদপ্তরের পুরনো স্থাপনায় প্রতিষ্ঠিত। একইভাবে রাঙ্গামাটির ইনস্টিটিউটের নদী উপকেন্দ্র ও পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় অবস্থিত নদী উপকেন্দ্রটি বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের পুরনো স্থাপনায় প্রতিষ্ঠিত। ময়মনসিংহে স্বাদু পানি কেন্দ্রটি ইনস্টিটিউটের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র। এ কেন্দ্রটি ১০০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা ইনস্টিটিউটের সদর দপ্তরের সঙ্গে সংযুক্ত। মাছের প্রজনন ও জাত উন্নয়ন, নার্সারি ব্যবস্থাপনা, বিলুপ্তপ্রায় মৎস্য প্রজাতির জিনপুল সংরক্ষণ, কুঁচিয়া মাছের চাষ, কার্পের মিশ্র চাষ, মৎস্য খাদ্যে পুষ্টিমান নির্ণয়, ঝিনুকে মুক্তা চাষ, মাছের রোগ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে এ কেন্দ্র থেকে গবেষণা পরিচালনা করা হয়।
ড. মো. শাহজাহান আলী খন্দকার প্রকল্পের বিষয়ে বলছেন, আসবাব এবং গবেষণা যন্ত্রপাতির ব্যয় অত্যধিক প্রাক্কলন করা হয়েছে। এসব প্রাক্কলন বাস্তবতার নিরীখে কমিয়ে আবার প্রাক্কলন করতে হবে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্র্তৃক ইতিপূর্বে ‘মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট শক্তিশালীকরণ’ এবং ‘বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গবেষণা শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রকল্পগুলো পরিচালনার ফলে ইনস্টিটিউটের কী কী উন্নয়ন হয়েছে এবং বর্তমানে আর কোন কোন খাতে উন্নয়ন করা হবে তা জানতে চেয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত চলমান ও সমাপ্ত প্রকল্পের প্রধান প্রধান আইটেমের সঙ্গে তুলনামূলক ব্যয় বিবরণীতে সমজাতীয় সমাপ্ত প্রকল্পের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রকল্পের পূর্ত ও নির্মাণ এবং প্রশিক্ষণ খাতে যে ব্যয় বিবরণ দেখানো হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া প্রকল্পের লগফ্রেম ঠিকভাবে প্রণয়ন করা হয়নি, পাশাপাশি প্রকল্পের বিভিন্ন অঙ্গের পরিমাণ ও ব্যয় প্রাক্কলন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।
আবাসিক ভবন নির্মাণ খাতে ১৬ কোটি ৪৩ লাখ ৭০ হাজার এবং অফিস ভবন নির্মাণ খাতে ৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার (মোট ৬২ কোটি ৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকার) সংস্থান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য ভবন ও অবকাঠামো খাতে ৯১ কোটি ৯২ লাখ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। অফিস ভবন ও আবাসিক ভবন ছাড়া আর কী কী ভবন তালিকায় রাখা হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। সব ধরনের নির্মাণ ও পূর্তকাজের ব্যয় প্রাক্কলন হালনাগাদ পিডব্লিউডি রেট শিডিউল অনুসারে সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরি ভিত্তিক করা হয়েছে কি না, তাও জানতে চেয়েছে।’’’