বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন দেখতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাত বছরের কারাদ-প্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসনের জামিন শুনানিকালে গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। আগামী ৫ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষকে এ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। ওই দিন পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছে আদালত।
এর আগে ২৫ নভেম্বর আপিল বেঞ্চে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির জন্য আবেদন উপস্থাপন করা হলে এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (গতকাল) পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে
শুনানি হবে বলে আইনজীবীদের জানায় আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল এটি শুনানির জন্য ওঠে। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। এ সময় তার পক্ষে আরও ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, কায়সার কামাল প্রমুখ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ৩১ জুলাই খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন খারিজের আদেশ দেয় হাইকোর্ট। এরপর ১৪ নভেম্বর আপিল বিভাগে বিএনপির চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা জামিনের এ আবেদন করেন। আবেদনে হাইকোর্টের ওই আদেশ বাতিল চেয়ে তার জামিন চাওয়া হয়। এরপর খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে গণমাধ্যমে যেসব প্রতিবেদন এসেছে সেসব যুক্ত করে গত রবিবার একটি সম্পূরক আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।
গত ৩০ এপ্রিল এ মামলায় খালেদার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট। গত বছরের ২৯ অক্টোবর ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়াসহ চার আসামিকে সাত বছর করে কারাদ- দেয়।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদ- হলে তাকে রাখা হয় নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। এ মামলায় হাইকোর্টে আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত বছরের ৩০ অক্টোবর তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। মামলায় সাজা থেকে খালাস ও জামিন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে করা আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। খালেদা জিয়া বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।