ব্যতিক্রমী কয়েকটি চুরির ঘটনা

চুরি পেশাদার চোরদের রুটি-রুজির উৎস হলেও, অনেকে এ অপরাধটি করেন শুধু মনের খোরাক মেটানোর জন্য। আবার কেউ কেউ চুরি করেন অন্যের নজরে আসার জন্য। ব্যতিক্রমী এমন অনেক চুরি আছে যেগুলো সাধারণ চুরির ঘটনার মতো নয়। এমনই কয়েকটি চুরির গল্প নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

নজর কাড়তে অ্যাপল সার্ভার হ্যাকিং

চাকরির জন্য মরিয়া হয়ে কত মানুষ কত কিছুই না করে। তাই বলে কর্তাব্যক্তিদের নজরে আসতে সেই প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য চুরি! তাও আবার আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের মতো এত বড় প্রতিষ্ঠানে! এমন সাহসের নজির স্থাপন করেছিল ১৬ আর ১৩ বছরের দুই কিশোর। শুধু অ্যাপলের নজরে আসার জন্যই তারা সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য হ্যাক করেছিল। তারা ভেবেছিল এত বড় প্রতিষ্ঠানের তথ্য হ্যাক করার মতো কাজ করতে পারলে প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতি খুশি হয়ে হয়তো চাকরির প্রস্তাব দেবে। কিন্তু সবসময় চাইলেই তো সব সত্যি হয় না।

অ্যাপলের বিশ্বাস ছিল, তাদের সার্ভার অনেক শক্তিশালী আর এটাকে হ্যাক করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের ১৬ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্র বিশ্বাস করত কোনো কাজই অসম্ভব নয়। এ বিশ্বাস থেকেই সে ২০১৭ সালে হ্যাক করে অ্যাপলের শক্তিশালী সার্ভার। সার্ভার থেকে ৯০ জিবির মতো গোপন তথ্য সে ডাউনলোড করে নেয়। সঙ্গে সঙ্গে সার্ভার থেকে প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতাবান কয়েকজন ব্যক্তির গোপন তথ্যসহ আরও অনেক ব্যবহারকারীর তথ্য পেয়ে যায়। তথ্যের গোপনীয়তা একজন হ্যাকারের হাতে চলে গেছে এ বিষয়টি নিঃসন্দেহে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এ প্রতিষ্ঠানটিকে। তারা দ্রুত বিষয়টি এফবিআই এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশকে জানায়। পুলিশও দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়। অ্যাপলের দুটি ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ফোন এবং একটি হার্ড ড্রাইভসহ পুলিশ নিজ বাড়ি থেকে ওই কিশোরকে আটক করে। তার ল্যাপটপে ‘হ্যাকি হ্যাক হ্যাক’ নামে চুরি করা একটি ফাইল পাওয়া যায়। এসব ছাড়াও তার ঘর থেকে হ্যাক করার আরও অনেক জিনিসসহ বেশকিছু ফাইল পাওয়া যায়। হ্যাকিং করার যাবতীয় জিনিস দিয়ে ওই কিশোর একবার নয়, বেশ কয়েকবার অ্যাপলের সার্ভারে হ্যাক করে। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এসব হ্যাক করা তথ্য সে বিভিন্নজনকে দিয়ে দিত। কিশোরটি ইন্টারন্যাশনাল হ্যাকিং কমিউনিটির সঙ্গে খুব ভালোভাবে পরিচিত ছিল বলে জানায় পুলিশ। অ্যাপল এবং পুলিশ– এ দুপক্ষের সিদ্ধান্তে কিশোরের পরিচয় কাউকে জানানো হয়নি। সে সময় কিশোরের হাতে প্রতিষ্ঠানের এবং ব্যবহারকারীদের গোপন কোনো তথ্য চলে যায়নি বলে অ্যাপল তার গ্রাহকদের নিশ্চিন্ত করে। এ ঘটনায় মাত্র ১৬ বছর বয়সেই অস্ট্রেলিয়ান সেই কিশোরকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।

এ ঘটনার কিছুদিন পর একই কাজ করে ১৩ বছর বয়সী আরেক কিশোর। সে শুনেছিল, হ্যাকিং করায় একজন ইউরোপিয়ানকে অ্যাপল চাকরি দিয়েছে। তার ধারণা ছিল তার সঙ্গেও এমন কিছু হবে। ভিপিএনের মাধ্যমে পরিচয় গোপন করে অ্যাপলের বিভিন্ন ফাইলে প্রবেশ করত সে। অল্প বয়সী এ কিশোর হ্যাকারের বিষয়ে এবারও এফবিআইকে জানায় অ্যাপল। কিশোরের মতে, অ্যাপল এবং টেকনোলজির প্রতি অত্যধিক ভালোলাগা থেকেই এমন কাজ করেছে সে। সে অ্যাপলের কর্মী হিসেবে যুক্ত হতে চায়। অল্প বয়সেই এত বড় একটি কাজ করা উচিত না হলেও তার মেধাকে ছোট করে দেখেনি কেউ। বরং মেধাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার বিষয়েই কিশোরকে উপদেশ দেওয়া হয়। আদালতে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ না আনা হলেও ৫০০ ডলারের বন্ডে সে আর কখনো এমন কাজ করবে না বলে সই নেওয়া হয় এবং ৯ মাস তার কার্যবিধি পর্যবেক্ষণের ওপর রাখা হয়। সেবারও অ্যাপল জানায়, তাদের সব তথ্য সুরক্ষিত আছে। এত বড় একটা ঘটনা থেকে বোঝা যায়, তথ্যের নিরাপত্তাসহ সিকিউরিটি বিষয়ক সবকিছুতে অ্যাপলকে অবশ্যই আরও সচেতন হতে হবে।

পিঁপড়া যখন ডায়মন্ড চোর

২০১৮ সালে ইউটিউবে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়। ভিডিওটি ছিল একটি ডায়মন্ড এবং পিঁপড়াকে নিয়ে। ৪৭ সেকেন্ডের সেই ভিডিওটি দেখে দর্শক বেশ মজা পান। দোকানের ডেস্কের ওপর ছোট্ট পিঁপড়া ডায়মন্ডের একটি টুকরোকে প্রথমে অঁাকড়ে ধরে এবং পরে সেটিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে এমনটিই দেখা যায় ভিডিও ক্লিপে। পিঁপড়ার ডায়মন্ড নিয়ে যাওয়ার এ পুরো সময়টিকে ক্যামেরা দিয়ে খুব কাছ থেকে ভিডিও করেন দোকানেরই একজন ব্যক্তি। ৪৭ সেকেন্ড পর হঠাৎ করেই ভিডিওটি বন্ধ হয়ে যায়। খুব স্বাভাবিকভাবেই একটি ডায়মন্ড নিয়ে যাওয়া চোরকে নিশ্চয়ই এভাবে চলে যেতে দেওয়া যায় না। কিন্তু শুধু পিঁপড়া বলেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পিঁপড়া চলে গেলেও ঘটনাটি রয়ে যায় ইউটিউবে।

বিশেষজ্ঞরা ভিডিও ক্লিপটি দেখে নিশ্চিত হতে পারেননি ছোট্ট পিঁপড়াটি কোন প্রজাতির। এটি প্রায় এক বা দুই ফুট পর্যন্ত ডায়মন্ডটি ঠেলে নিয়ে যায়। আপাতদৃষ্টিতে দূরত্বটি আমাদের জন্য খুব বেশি মনে না হলেও একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর জন্য বেশ অনেকখানি দূরত্বই বটে। এ আকৃতির পিঁপড়ার চেয়ে কিছুটা বড় প্রাণীর হালকা কিছু জিনিস বয়ে নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য আছে কিন্তু এত ক্ষুদ্র একটি প্রাণী তার পিঠে করে কীভাবে ডায়মন্ডটি এতদূর পর্যন্ত নিয়ে গেল সেটি অনেকের কাছেই একটি বিস্ময়। আর কেন ডায়মন্ডের প্রতি এটির আগ্রহ জন্মাল সেটি নিয়েও ভেবেছেন অনেকে। কেউ কেউ বলছেন, ডায়মন্ডের সঙ্গে হয়তো ভোজ্য গন্ধযুক্ত কোনো রাসায়নিক মিশ্রিত ছিল যার কারণে পিঁপড়া এর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে।

‘চুরি’ রোগ

২০১৬ সালে একজন ব্রাজিলিয়ান নারী প্লাস্টিক সার্জারি করার পর বেশকিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হন। এ সমস্যা থেকে তিনি মুক্তিও পান, তবে কোনো কিছু চুরি করা শেষে। যতক্ষণ তিনি চুরি করতে না পারতেন ততক্ষণ এ সমস্যা দূর হতো না। এর মূল কারণ তিনি আসলে ভুগছিলেন ক্লেপটোম্যানিয়াক বা চুরি করার বাতিকে। ৪০ বছর বয়সী সেই মহিলা ঠোঁট, বুক, পেট, হাত সবকিছুর প্লাস্টিক সার্জারি করানোর জন্য চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। অপারেশন শেষে মহিলা যথেষ্ট সুস্থ ছিলেন। তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্রও দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বিপত্তিটা বাধে কিছুদিন পর। কয়েক দিন পরপর তিনি বেশকিছু বিষয় ভুলে যাচ্ছিলেন এবং চুরির বাতিক তাকে পেয়ে বসছিল। পরে চিকিৎসকের কাছে গেলে জানা যায়, সেই অপারেশন করার সময় ভুলবশত কোনোভাবে তার মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে যায় যার কারণে মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই ধরনের ব্রেন স্ক্যান থেকে জানা যায়, তিনি ভুগছিলেন হাইপোক্সিক ইসামিক নামক ব্রেন ইনজুরিতে। এটি মূলত অপারেশনের সময় বা তার পরে কোনোভাবে মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছানো বন্ধ হয়ে গেলে দেখা দেয়। ঘটনাটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য রোগীর আগের সব রিপোর্ট চেক করা হয়। সেখানে দেখা যায়, এর আগে তিনি কখনো এ ধরনের সমস্যায় পড়েননি। এর অর্থ এ অপারেশনেই এমন কিছু হয় যা তাকে চুরিবিদ্যার দিকে নিয়ে যায়। অপারেশন শেষে বাড়ি ফেরার পর থেকে মহিলা খুব অস্থিরতায় ভুগতে শুরু করেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন না কেন এমন হচ্ছে। তার শুধু মনে হতো কিছু না কিছু তাকে চুরি করতে হবে এবং যখনই তিনি এমনটি করতেন তখনই তার স্বস্তি মিলত। চুরির ঘটনায় তাকে থানা পর্যন্ত যেতে হয়। একদিন তিনি তার মেয়েকে নিয়ে তার এক বান্ধবীর জন্য দোকান থেকে গিফট কিনতে গিয়েছিলেন। জিনিস কেনার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি চুরি করতে চাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত দোকান থেকে বের হওয়ার সময় তিনি ধরা পড়ে যান এবং তার ব্যাগ থেকে চুরি করা জিনিস পাওয়া যায়। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। চিকিৎসক যখন তার শারীরিক অবস্থার কথা পুলিশকে জানান শুধু তখনই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মহিলার এ চুরি করার বাতিক অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কিছুদিন পর কোনো চিকিৎসা ছাড়াই তিনি সুস্থ হয়ে যান। এই পুরো সময়ে মস্তিষ্ক নিজে নিজে তার ক্ষতি ঠিক করে নিচ্ছিল। অপারেশনের পর রোগী কী কী সমস্যায় ভুগতে পারেন সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা হলে জানা যায়, বড় কোনো অপারেশন হলে মস্তিষ্কের এমন সাময়িক কিছু ক্ষতি হতে পারে। তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী নয়। ক্লেপটোমানিয়ার এমন ঘটনা আরও আছে। তবে হাইপোক্সিক ইসামিক ইনজুরির পর ক্লেপটোমানিয়ার এমন ঘটনা সম্ভবত এই প্রথম।

কেক  চুরি

চুরির কথা ভাবলেই আমাদের ভাবনায় আসে দামি যেকোনো জিনিসের কথা। কিন্তু তাই বলে একজন মানুষ কেন নিয়মিত কেক চুরি করবে? কেকের কথা শুনে মনে হতে পারে যিনি নিয়ম মেনে কেক চুরি করছেন তিনি হয়তো মিষ্টি খুব বেশি ভালোবাসেন। এত কেক কিনে খাওয়ার চেয়ে চুরি করাই উত্তম ভেবে হয়তো তিনি এমন পন্থা বেছে নিয়েছেন। অবাক করার বিষয় হলো, কেক তিনি চুরি করতেন ঠিকই, কিন্তু খাওয়ার জন্য নয়, বিক্রির জন্য।

ডেভিড লিভিগানা নামে এক ব্যক্তি তার কর্মস্থল থেকে বিশেষ আকৃতির ১ হাজার ২০টি কেক চুরি করেছেন। আর এত কেক বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৯০ হাজার ডলার। নিজ কর্মস্থলে কাজ করলেও ডেভিড চুরি করতেন লেডি এম কনফেকশনারির জন্য। প্রতিটি কেকের ওপর এই কনফেকশনারির বিখ্যাত খরগোশের স্ট্যাম্প সিগনেচার দেওয়া থাকত। প্রতিটি কেক বিক্রি হতো ৯০ ডলারে। তাদের এ কেক এত বিখ্যাত ছিল যে মার্থা স্টুয়ার্ট এবং অপরাহ উইনফ্রে পর্যন্ত এর ভক্ত ছিলেন। এমনকি নিউ ইয়র্ক টাইমস এই কেক নিয়ে লিখেছিল যে, এটি শহরের দ্বিতীয় ভালো এবং মজাদার কেক। অন্যান্য দামি জিনিসের মতো কেকেরও যে একটি কালোবাজারির বিষয় আছে সেটি আর কারও অজানা রইল না, চুরির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর। কালোবাজারিতে যে চাইলে দুই হাতে অর্থ পাওয়া যায় সেটিও ডেভিড বুঝে গিয়েছিলেন বেশ ভালোভাবেই। ডেভিডকে যখন কেক চুরির এ কাজের জন্য দায়ী করা হয় তখন তার বিরুদ্ধে প্রমাণও সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হয়। কেকের ওয়্যারহাউজের ক্যামেরা থেকে দেখা যায়, ডেভিড প্রায় দিনই ওয়্যারহাউজে কেক বানানো শেষে ব্যাগে করে কেক নিয়ে গাড়িতে চড়ে বসতেন। কেক তৈরির প্রতিষ্ঠানটি যখন ডেভিডের এ চুরির বিষয়টি জানতে পারে তখন তারা বেশ অবাক হয়। তারা জানায়, তাদের ধারণা ছিল কেক হয়তো বাইরে ডিসকাউন্টের সময় কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে যার কারণে খরচে খুব বেশি হেরফের হয়নি। অন্য প্রতিষ্ঠানের কেক নিজেদের বলে বিক্রি করা প্রতিষ্ঠান লেডি এম কনফেকশনারি তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে, ‘নিজ দায়িত্বে এবং গর্বের সঙ্গে আপনাদের দুয়ারে হাতে বানানো প্রতিটি কেক পৌঁছে দিতে আমরা দায়বদ্ধ। হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া প্যাকেজের জন্য লেডি এম দায়ী থাকবে না।’ যে প্রতিষ্ঠান এতদিন অন্যের বানানো কেক নিজেদের বলে বিক্রি করেছে, আসল কেক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চয়ই তাদের এত সহজে ছেড়ে দেবে না। তারা তাদের চুরি যাওয়া প্রতিটি কেকের দাম সুদসহ ফেরত চেয়েছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা।

৩ লাখ ডলারের আখরোট চুরি

দামি খাবার হলে সেটি চুরি হতেই পারে। তাই বলে আখরোট? একজন মানুষ কেন আখরোট চুরি করলেন এ প্রশ্নই ভাবিয়ে তুলেছিল বেশকিছু মানুষকে। ২০১২ সালে মালবাহী পণ্যের একটি ডেলিভারি নিয়ে মিয়ামির একটি ফার্মের কর্মীরা বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। আখরোটভর্তি একটি শিপমেন্ট মিয়ামিতে এসে পৌঁছানোর কথা ছিল যা সময়মতো পৌঁছায়নি। এমনকি ডেলিভারি দেওয়ার পরের দুদিনেও সেই ট্রাকের খোঁজ মিলল না। প্রতিষ্ঠানটি পুলিশকে ট্রাকের বিষয়ে জানালেন। আখরোটগুলো আসছিল ক্যালিফোর্নিয়ার তেহামা থেকে। এ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা জানলেন আরও একটি অবাক করা তথ্য। কিছুদিন আগেও তেহামার আখরোট বাগান থেকে আখরোটভর্তি আরও একটি ট্রাক সঠিক জায়গায় পৌঁছায়নি। সেই কার্গোটি সানআন্তোনিওর কোনো একটি রাস্তায় বলা যায় একদম গায়েবই হয়ে গেছে।

এই দুই শিপমেন্টে যে পরিমাণ আখরোট হারিয়ে যায় তার পরিমাণ প্রায় ৩৭ হাজার ১৯৪ কেজি। দাম প্রায় ৩ লাখ ডলারের কাছাকাছি। দুটি ঘটনাই ঘটে অক্টোবরে আর সেই ট্রাক চালাচ্ছিল একজন চালকই। তার ভাষা শুনে বোঝা যাচ্ছিল তিনি একজন রাশিয়ান। উচ্চতায় প্রায় ৬ ফুট এবং প্রায় ৯০ কেজি ওজনের ব্যক্তিটি যে সেমি ট্রাকটি চালাতেন তার গায়ে লেখা ছিল ‘ইন টেক ট্রান্সপোর্টেশন’। সেই ট্রাকের কোম্পানিকে যখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তখন তারা জানান ওই ব্যক্তি তাদের প্রতিষ্ঠানের চালক ছিলেন না। কেউ বলতে পারেননি রাশিয়ান সেই চালকের কী হয়েছিল অথবা কেনই বা তার এত আখরোট চুরি করার প্রয়োজন হলো। অনেকেই বলেন, সম্ভবত তিনি কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন আর সেখানেই ভালো দামে কেনার জন্য কোনো ক্রেতাকে পেয়ে গিয়েছিলেন; যার হাতে চুরি করা বিপুলসংখ্যক আখরোট তুলে দিয়েছিলেন।