রামগঞ্জে আ.লীগ নেতার ভাগনে অভিযুক্ত

ধর্ষণের মামলা করে বিপাকে গৃহবধূ ও পরিবার

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ভাগিনার বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণের মামলা করে বিপাকে পড়েছেন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার এক কলেজছাত্রী গৃহবধূ (২৫) ও তার পরিবার। অভিযুক্ত ফিরোজ আলম প্রভাবশালী হওয়ায় ওই গৃহবধূর পরিবারকে বারবার হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

কলেজছাত্রী ওই গৃহবধূ জানান, তিনি এক সন্তানের জননী। স্বামী প্রবাসে। লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়া কলেজে পড়াকালীন রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ ক ম রুহুল আমিনের ভাগিনা ফিরোজ আলমের সঙ্গে পরিচয় হয়।

পরিচয়ের সূত্র ধরে ফিরোজ আলম জানান, তার মামার (উপজেলা চেয়ারম্যান) মাধ্যমে সরকারি চাকরি পাওয়া সম্ভব। তবে টাকার প্রয়োজন। বাবাহারা ওই কলেজছাত্রী স্বামীর সঙ্গে কথা বলে তিন ধাপে ফিরোজ আলমের হাতে তিন লাখ টাকা তুলে দেন চাকরি পাওয়ার আশায়। এর মধ্যে ২০১৮ সালের মে মাসে ওই কলেজছাত্রীর ইমো আইডি হ্যাকড হলে তিনি ফিরোজ আলমের শরণাপন্ন হন এবং রামগঞ্জ থানায় জিডি করেন।

এদিকে একপর্যায়ে কলেজছাত্রীকে ফিরোজ আলম বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এতে কলেজছাত্রী রাজি না হওয়ায় ফিরোজ কৌশলে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে চাকরির কথা বলে লক্ষ্মীপুরের মোবারক কলোনির এক বন্ধুর বাসায় তাকে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে আপত্তিকর ভিডিওচিত্র মোবাইলে ধারণ করে ফিরোজ আলম। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময় কলেজছাত্রীর কাছ থেকে ফিরোজ আলম আরও চার লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়।

গত ১৯ নভেম্বর সকালে ওই কলেজছাত্রী তার বাবার বাড়িতে থাকা অবস্থায় ফিরোজ আলম ফোন দিয়ে জানায়, যদি তাকে আরও ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয় তাহলে ধারণকৃত ভিডিও ফেরত দেবে। এদিন বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে ফিরোজ ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। এ সময় কলেজছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ফিরোজকে দিগম্বর অবস্থায় আটক করলেও তার মামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ ক ম রুহুল আমীনের অনুসারী কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ফিরোজকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর কলেজছাত্রী ও তার মা প্রথমে পালিয়ে লক্ষ্মীপুরের এক আত্মীয়র বাসায় আত্মগোপন করেন। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কলেজছাত্রীকে ভর্তি করা হয় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে। এরপর ২৪ নভেম্বর নিকটাত্মীয়দের সহযোগিতায় কলেজছাত্রী বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তবে অভিযুক্ত ফিরোজ আলম ধর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করেছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ ক ম রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি জানি না। যদি কেউ এ ধরনের কাজ করে থাকে, সেটা একান্তই তার ব্যাপার। কলেজছাত্রীর মা বলেন, প্রায় প্রতি রাতে বাড়ির সামনে দলবল নিয়ে মোটরসাইকেলে মহড়া দেওয়ায় আতঙ্কে আছি।