ঠিক দুপুর ২টা। যুক্তরাজ্যের লন্ডন ব্রিজে উদ্ধত ছুরি হাতে ছুটছেন এক ব্যক্তি। তার এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে অল্প সময়ের মধ্যেই আহত হয়েছেন কয়েকজন। এর মধ্যেই কেউ একজন ফোন করেন পুলিশকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। বন্ধ করে দেয় সেতু দিয়ে সব ধরনের চলাচল। এক পর্যায়ে হামলাকারীকে জাপটে ধরেন জ্যাকেট পরা এক ব্যক্তি। দুজনের মধ্যে মুহূর্তকাল ধস্তাধস্তি হয়। এগিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশের এক সদস্য জ্যাকেট পরা ব্যক্তিকে সরিয়ে নেন। এর মধ্যেই পুলিশের আরেক সদস্য সন্দেহভাজন ওই হামলাকারীকে গুলি করেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে লন্ডন ব্রিজের ওপরে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় মারা গেছেন গুলিবিব্ধ ওই হামলাকারী। তার ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
লন্ডন পুলিশের বরাতে বিবিসি বলছে, ঠিক ২টার সময় দুই পক্ষের মধ্যে ‘সংঘর্ষের’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে তারা বুঝতে পারেন এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা। হামলাকারীর শরীরে বিস্ফোরক বাঁধা ছিল।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের ভাষ্য, এটি একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা। সুযোগ পেলে হামলাকারী বিস্ফোরক দিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারত। এদিকে দ্য গার্ডিয়ানের এক খবরে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘিরে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে। তবে একে সন্ত্রাসী তৎপরতা হিসেবেই নিয়েছে পুলিশ।
এদিকে এই হামলার পরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক টুইট বার্তায় বলেছেন, তিনি ঘটনা সম্পর্কে অবগত। ঘটনার পর পুলিশ ও জরুরি সেবায় কর্মরত ব্যক্তিরা ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এই ঘটনাকে ‘গুরুতর’ বলে অভিহিত করেছে। ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর লন্ডন ব্রিজ স্টেশন তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
২০১৭ সালের জুনে তিন জঙ্গি লন্ডন ব্রিজে ভিড়ের মধ্যে ভ্যান চালিয়ে দিয়ে এবং ছুরি মেরে আটজনকে হত্যা করে।