কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিদারুল ফেরদৌসের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দায়ের করা একটি অভিযোগ দুদক তদন্তকালে সাক্ষীর উপর হামলার ঘটনায় কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ ন ম শহীদ উদ্দিন ছোটনকে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
শনিবার রাত ১১টার দিকে কক্সবাজার শহর থেকে তাকে আটক করে দুদক।
এর আগে উক্ত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেলাল নামের আরও এক যুবককে আটক করা হয়।
আটক ইউপি চেয়ারম্যান কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জাফর সাদেক শিবলী সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জাফর সাদেক শিবলী জানান, কুতুবদিয়া থানার ওসি দিদারুল ফেরদৌসের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দায়ের করা একটি অভিযোগের তদন্তে কুতুবদিয়া যায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি দল।
ওই অভিযোগের তদন্তের সাক্ষী দিতে আসা লোকদের উপর ওসির পক্ষ হয়ে স্থানীয় বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ ন ম শহীদ উদ্দিন ছোটনের নেতৃত্বে ১০/১২জনের একটি দল হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করেন।
এক পর্যায়ে দুদকের প্রতিনিধিদলের তৎপরতায় পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং আহতদের হাসপাতালে ভর্তির করা হয়।
এর আগে শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হাইকোর্টে রিটকারী মনোয়ারুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কুতুবদিয়া থানার ওসি দিদারুল ফেরদৌস সহ থানার অন্যান্য কর্মকর্তারা নিরীহ লোকদের অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো, ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি, ৪০ লাখ টাকার ঘুমসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে প্রথমে দুদক কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করি। তারা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় মহামান্য হাইকোর্টে একই অভিযোগে নতুন করে একটি রিট পিটিশন দায়ের করি।
ওই রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট চট্টগ্রাম দুদককে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টর এই নির্দেশের পর দুদকের একটি টিম সকালে তার তদন্ত করতে আসলে ওসির নির্দেশে চেয়ারম্যান ছোটন দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। সর্বশেষ ওসির বিপক্ষে সাক্ষী দেওয়ায় তিনজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন চেয়ারম্যান ছোটন ও তার লেলিয়ে দেয়া বাহিনীর সদস্যরা।’
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আ ন ম শহীদ উদ্দিন ছোটন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘হাইকোর্টে রিটকারী মনোয়ারুল ইসলাম মুকুল একজন মামলাবাজ। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ ৪/৫টি মামলা রয়েছে। তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন। আমি ও আমার লোকজন কাউকে মারধর করেননি।