ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা হচ্ছে না বিবাহিত ছাত্রদল নেতাদের। গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন। তিনি বলেন, চলতি মাসেই ছাত্রদলের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। এরপর সবাইকে নিয়ে আগামী ১ জানুয়ারি ২০২০ সংগঠনের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করব আমরা। ছাত্রদল পূর্ণাঙ্গ কমিটির পাশাপাশি চলছে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিন, পূর্ব ও পশ্চিম ইউনিটের কমিটি গঠনের কাজ। গঠন শেষে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিবাহিতদের রাখা হবে না– এমন খবরে বিবাহিতরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একাধিক বিবাহিত নেতা গতকাল ড়্গোভ প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, পহেলা নভেম্বর থেকে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা পেতে তারা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানালে তারা অনশন কর্মসূচি থেকে সরে আসেন। তাছাড়া সাবেক ছাত্রদল নেতারা যারা এখন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারাও এ বিষয়ে পজিটিভ ছিলেন। কিন্তু কমিটিতে বিবাহিতদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান ষড়যন্ত্র করছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
তারা বলেন, আকরামুল হাসান পরবর্তী সময়ে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। মূলত তিনিই বিবাহিতদের ছাত্রদল থেকে বাদ দেওয়ার ধোঁয়া তুলছেন। তার যুক্তি, বিবাহিত যারা পদপ্রত্যাশী তাদের চেয়ে নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জুনিয়র। সে কারণে বিবাহিতদের পদায়ন হলে সভাপতি-সম্পাদকের সংগঠন চালাতে হিমশিম খেতে হবে। তাই সংগঠন আরও গতিশীল করতে বিবাহিতদের বাদ দিতে হবে। সাবেক ওই ছাত্রনেতা ছাড়া আর কারও আপত্তি নেই বিবাহিতদের কমিটিতে রাখতে।
তবে বিবাহিতদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আকরামুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন কিংবা বিবাহিতদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কারণ কমিটি করছেন সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এ দুজন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে কমিটি গঠনের কাজ করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খোকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিবাহিতদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে আমাদের কোনো হাত নেই। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাদ দিতে চাইলে আমাদের করার কিছু নেই।
২৮ বছর পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল হয়। সে সময় বলা হয়েছিল, কাউন্সিলের এক সপ্তাহ থেকে দশ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। কিন্তু কাউন্সিলের পর দুই মাস দশ দিন পেরিয়ে গেলেও গতকাল পর্যন্ত কমিটি ঘোষণা হয়নি। এ অবস্থায় ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী নেতারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার।
খোকন বলেন, প্রথমে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের আংশিক কমিটি ঘোষণার কথা ছিল। এরপর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটিসহ অন্যান্য কমিটি ঘোষণার ইচ্ছা তাদের ছিল। কিন্তু লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একই সঙ্গে অন্যান্য ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করতে চাওয়ায় তা গঠন করতে গিয়ে দেরি হয়েছে। তবে কাজ শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই এসব কমিটি ঘোষণা করা হবে।