গাজীপুরে প্রধান বিচারপতি

আইনজীবী সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার, বিচারক বিচারের মূর্ত প্রতীক

আইনজীবীরা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার আর বিচারকরা বিচারের মূর্ত প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিচারক ও আইনজীবীদের সমাজে শািন্ত প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আইনজীবীরা বিচারব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অঙ্গ। আইনজীবীদের সহায়তা ছাড়া বিচারকাজ কিছুতেই অগ্রসর হতে পারে না।’ 

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় গাজীপুরে জেএমবির বোমা হামলায় শহীদ আইনজীবীদের স্মরণে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।  জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়। 

আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আপনাদের নির্ভীক হতে হবে। নিরন্তর কর্মে নিমগ্ন থেকে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে সচেষ্ট হতে হবে।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাজনৈতিক অপশক্তির প্রভাবে দেশে ধর্মান্ধ ও প্রতিক্রিয়াশীল বিভিন্ন চক্রের উদ্ভব ঘটে। এই প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের মূল টার্গেট হলো বিচারাঙ্গন। মূলত যারা বাংলাদেশের অিস্তত্বকে বিশ্বাস করে না সেই বিপথগামী গোষ্ঠী বারবার বিচারব্যবস্থার ওপর আঘাত করেছে।’

এর আগে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা বারের নিহত আইনজীবীদের স্মরণে বার প্রাঙ্গণে নির্মিত শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর সকালে গাজীপুরের আইনজীবী সমিতির ২নং হলরুমে জেএমবির আত্মঘাতী বোমা হামলায় প্রাণ হারান ৪ আইনজীবী। একই বছরের ১ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৯ আইনজীবী ছাড়াও বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও পথচারী আহত হন।

গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. মো. খালেদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মনজুর মোর্শেদ প্রিন্সের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গাজীপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. একেএম আবুল কাশেম, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।