টাকা কামানোর রোগে আওয়ামী লীগই বেশি আক্রান্ত : ফখরুল

‘টাকা কামানো একটা রোগ’– প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ রোগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই বেশি আক্রান্ত। এ কারণে আপনার সোনার ছেলেদের এখন ধরে ধরে আনা হচ্ছে। তাদের বলার চেষ্টা করছেন যে তোমরা এখন ভালো হয়ে যাও। গতকাল রবিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নৃশংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনায় নয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের অনেকের মধ্যে হতাশা দেখা যাচ্ছে। তারা হতাশার কথা বলেন। হতাশাই শেষ কথা নয়। মনে রাখতে হবে অন্ধকারের পরেই আসে নতুন ভোর। এজন্য ক্ষমতাসীন সরকারকে সরাতে হলে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামতে হবে।

‘আওয়ামী লীগ রোল মডেল’– সরকারের মন্ত্রী-এমপি-নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, সরকার মডেল তবে তা সন্ত্রাস, নারী ধর্ষণ, দুর্নীতি ও টাকা পাচারের। আজ দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা কামিয়ে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে।

সৌদি আরব থেকে নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরে আসা নারীদের বিষয়ে আয়োজিত সেমিনারে মির্জা ফখরুল বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দুঃখজনক। গ্রামের জোতদারদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের মিল রয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের জনগণ কেউই নিরাপদ নয়। যারা একটু শারীরিকভাবে দুর্বল তারা বেশি অনিরাপদ। দুই মাসের শিশু থেকে শুরু করে ৯০ বছরের বৃদ্ধা অথবা তরুণ-যুবক, বাবা, ভাই, কেউ কিন্তু এখানে নিরাপদ নয়। বাংলাদেশ আসলে এখন একটি সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছে। সারা বাংলাদেশে আজ প্রতিদিনই নারী ও শিশুর ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চলছে।

ফখরুল ইসলাম বলেন, সমাজকে বিভক্ত করে ফেলা আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় অপরাধ। সমাজকে পুরোপুরিভাবে দূষিত করে ফেলেছে। চতুর্দিকে তাকালেই দেখা যাবে বিভক্তি। এ বিভক্তিটা ভয়ংকরভাবে সমাজের মধ্যে চলে গেছে। সেই ভয়ে, ত্রাসে কেউ কথাও বলতে চায় না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন হাইকোর্টে যেতেই পারবেন না। সেখানে গিয়ে কোনো লাভও হবে না। কারণ প্রধান বিচারপতিকে বন্দুক দেখিয়ে ঘাড় ধরে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেওয়ায় একজন বিচারককে প্রাণের ভয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। সেই দেশে আমরা কী করে আশা করি যে, মানুষ ন্যায়বিচার পাবে? দেশ স্বাধীনের পরও দেশের অবস্থা এমনটা ছিল না। তখন ভিকটিমরা বিচার পেতেন।

নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, প্রফেসর দিলারা চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ফজলুর রহমান প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।