১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদারদের কবল থেকে মুক্ত হয় বরগুনা, ঠাকুরগাঁও ও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর। মুক্তিকামী বাঙালিরা এদিন মুক্ত এলাকাগুলোয় উড়িয়ে দেন লাল-সবুজের পতাকা। মুক্ত দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠন ওই সব এলাকায় নিয়েছে নানা কর্মসূচি। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর–
বরগুনায় আজানকে সংকেত হিসেবে ব্যবহার : নানা কৌশলে বরগুনাকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেন মুক্তিযোদ্ধারা। শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্র আবদুস সত্তার খানের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা বরগুনাকে মুক্ত করেন। আবদুস সত্তার খান জানান, বরগুনাকে মুক্ত করার কৌশল হিসেবে কারাগার, ওয়াপদা কলোনি, জেলা স্কুল, সদর থানা, ওয়ারলেস স্টেশন, এসডিওর বাসাসহ বরগুনা শহরকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। তারা ফজরের আজানকে অভিযান শুরুর সংকেত হিসেবে ব্যবহার করে আজান শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ওই সব স্থান থেকে একযোগে গুলিবর্ষণ শুরু করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং রাজাকার-আলবদরদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করেন।
‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনি ওঠে ঠাকুরগাঁওজুড়ে : মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ৯ মাসে ঠাকুরগাঁও মহকুমা পাকিস্তানি সেনারা দখল করে সবার পরে, কিন্তু মুক্ত হয় আগেভাগে। ভুল্লী সেতুটি মুক্তিযোদ্ধারা মাইন দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ায় মনোবল ভেঙে যায় হানাদার বাহিনীর। কমান্ডার মাহাবুব আলমের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে অগ্রসর হলে পিছু হটতে বাধ্য হয় খানসেনারা। পরে ৩ ডিসেম্বর লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে আনন্দ-উল্লাস করে মুক্তিকামীরা প্রবেশ করেন ঠাকুরগাঁওয়ে। এদিন পালিয়ে যায় হানাদাররা।
গেরিলা হামলায় মুক্ত হয় শমসেরনগর : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগরে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা হামলা চালিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করেন। ফলে মুক্ত হয় শমসেরনগর। মুক্ত দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে শমসেরনগর সাহিত্যাঙ্গনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা বের হবে। এ ছাড়া স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান শমসেরনগর ডাকবাংলো পরিদর্শন করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।