শীতে কাঁপন ধরতে পারে মাসের শেষ দিকে

আসি আসি করেও পুরোদমে আসছে না শীত। উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় অল্পমাত্রায় শীত জেঁকে বসলেও দেশের অন্যত্র তেমন পড়েনি। ঋতুর হিসাবে পৌষ ও মাঘ শীতকাল হলেও অগ্রহায়ণ থেকেই দেশে শীতের দেখা মেলাটা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু এবার অগ্রহায়ণের ১৮ দিন পার হতে চললেও দেখা নেই শীতের। উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকা ছাড়া দেশের অন্যত্র কাউকে লেপ-

কম্বল বের করতে হয়নি। রাজধানী ঢাকায় দুপুরের পর তেজহীন সূর্য আর হালকা কুয়াশা দেখা গেলেও শেষ রাতেও অনুভূত হয় না শীত। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই শীতের দেখা মিলবে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস থাকলেও তারা এখন বলছে, সারা দেশে পুরোপুরি শীত পেতে মাসের শেষাংশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

শীত আসতে এবার দেরি হচ্ছে মানতে নারাজ অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন। তিনি গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শীত আসতে দেরি হচ্ছে এমনটা বলা যাবে না। উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে রংপুর ও রাজশাহীতে মোটামুটি শীত পড়ছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রিতে এসেছে। গত বছরের এই সময়ও অত বেশি শীত ছিল না। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রির মতো ছিল। বছরভেদে শীত পড়ায় ৫-৬ দিনের তারতম্য হওয়াটা স্বাভাবিক। সামনের দুই-তিন দিন তাপমাত্রা আরও কমবে। এরপরের দুদিন আবার কিছুটা বাড়তে পারে। তারপর থেকে আবার কমতে থাকবে। তবে সারা দেশে পুরোপুরি শীত অনুভূত হতে ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি বা পৌষের শুরু পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

অধিদপ্তরের গত মাসের আবহাওয়ার পর্যালোচনায় বলা হয়, নভেম্বর জুড়ে দেশের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি ছিল। এ মাসে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পাওয়া গেছে ২৯ নভেম্বর তেঁতুলিয়ায় ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে দু’দিনের ব্যবধানে গতকাল এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রংপুরের রাজারহাটে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিন সিলেটের শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি এবং দিনাজপুর ও সৈয়দপুরে ছিল ১৩ দশমিক ১ ও ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময় রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রির ওপর।

দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে শুধু রংপুর ও রাজশাহীতে মোটামুটি শীত রয়েছে। এ দুই বিভাগের অধিকাংশ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রির নিচে রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যত্র সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রির ওপর রয়েছে। সবচেয়ে কম শীত অনুভূত হচ্ছে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও খুলনা বিভাগে।

অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথমার্ধে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি থাকতে পারে। তবে মাসের শেষার্ধে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যেতে পারে এবং এ সময় দেশের  উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে দু-একটি মৃদু বা মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। মাস জুড়ে মাঝারি থেকে ঘনমাত্রার কুয়াশা পড়তে পারে। আজকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।