শুভাশিস সিনহা। কবি, নাট্যকার, নির্দেশক হিসেবে খ্যাতি কুড়িয়েছেন। মণিপুরি থিয়েটারের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলটির প্রায় সব নাটক নির্দেশনা দেন। এবার তার নির্দেশনায় মণিপুরি থিয়েটার মঞ্চে আনছে ‘ও মনপাহিয়া’ নামে নতুন নাটক। তার সঙ্গে কথা বলেছেন পাভেল রহমান।
নতুন নাটক মঞ্চে আনছে মণিপুরি থিয়েটার
নাগরিক নাট্য সম্পªদায় সম্পªতি পাঁচজন তরুণ নাট্যনির্দেশককে আর্থিক প্রণোদনা দিয়েছে। সেখানে আমার একটি নাটককেও পছন্দ করেছে। নাগরিকের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় মণিপুরি থিয়েটার আমার নির্দেশনায় মঞ্চে আনছে ‘ও মনপাহিয়া’ নাটকটি। এটি দলের ৩৫তম প্রযোজনা, আমার নির্দেশনায় ৪০তম নাটক। নাগরিকের আয়োজনে নতুনের উৎসবে সাতটি নতুন নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হচ্ছে। এর মধ্যে আমাদের এই নাটকটিও রয়েছে। আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় সেগুনবাগিচার জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে।
ও মনপাহিয়া প্রসঙ্গে
মনপাহিয়া মানে মনপাখি। আমাদের ভেতরকার যে পাখিটাকে আমরা প্রতিদিন গলা টিপে ধরছি, তারই বেদনার্ত মুক্তির গান। মানুষেরই দাম নেই দুনিয়ায়, অথচ এখানে একটা পাখির জন্য অবিরল অশ্রু আর রক্তক্ষরণ। মানুষকে ভাবাতে পারে নতুন করে। মূল গল্প আফ্রিকান গল্পকার মিআ কোউতো’র। ‘দ্য বার্ড অব গড’ নামে খুব ছোট্ট একটা গল্প ছিল। সেটাকে বীজ ধরে একটা জনপদের আখ্যানের ডালপালা ছড়ানো হয়েছে। নাট্যরূপ না, গল্প অবলম্বনে রচনাই বলা যেতে পারে।
নাটকের কুশীলব
অনেক নতুন ছেলেমেয়ে কাজ করছে নাটকটিতে। দলের পুরনো সদস্যদের মাঝে জ্যোতি সিনহা, স্মৃতি সিনহা, উজ্জ্বল সিংহ, অরুণা সিনহা, শ্যামলী সিনহা রয়েছেন। নতুন পুরাতনের একটা সম্মিলন দেখা যাবে এই নাটকে। মঞ্চে ১৪জন শিল্পী অভিনয় করবেন, পাশাপাশি সংগীত দলে থাকবেন সাতজন। এছাড়া অন্যান্য কলাকুশলী মিলিয়ে ২৫ জনের একটি দল নাটকটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থানার ঘোড়ামারা গ্রামে মণিপুরি থিয়েটারের নিজস্ব নটমণ্ডপে আমরা নাটকটির মহড়া করেছি।
এই নাটকের বিশেষত্ব কী?
বিশেষত্ব বলতে গেলে এর গল্প বা বিষয়। মনে হতে পারে খুব চেনা, সহজ, আবার তা-ই মনে হতে পারে অভিনব। নাটক দেখার পর দর্শক বলতে পারবেন। গল্প বলার ধরনটা ভালো লাগতে পারে। চমক তো খানিকটা থাকবেই। সবাইকে আমন্ত্রণ জানাব নাটকটি মিলনায়তনে এসে দেখার জন্য।