মানবতাবিরোধী অপরাধ

কায়সারের আপিলের রায় ১৪ জানুয়ারি

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মো. কায়সারের আপিলের রায় জানা যাবে আগামী ১৪ জানুয়ারি। ওই রায়ের বিরুদ্ধে কায়সারের করা আপিলের ওপর গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে রায়ের জন্য এদিন ধার্য করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত চার বিচারপতির আপিল বিভাগ।

একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগিতায় নিজের নামে ‘কায়সার বাহিনী’ গঠন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন মুসলিম লীগের এ নেতা। স্বাধীনতার পর একসময় বিএনপি করলেও পরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের (প্রয়াত) জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে সরকারের প্রতিমন্ত্রী হন তিনি।

আদালতে কায়সারের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এসএম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিনউদ্দিন মানিক ও বিশ^জিত দেবনাথ। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা কায়সারের সর্বোচ্চ সাজা বহাল রাখার আর্জি জানান।

মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে রায়ের পর্যায়ে আসা এটি নবম মামলা। দীর্ঘদিন আপিল বিভাগে মামলাটি ঝুলে থাকার পর গত ১০ জুলাই শুনানি শুরু হয়।

সর্বোচ্চ আদালতে রায়ের তারিখ ধার্যের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সৈয়দ কায়সারের মামলায় শুনানি শেষ হয়েছে। রায়ের জন্য আগামী ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছে আদালত। আদালতে আমি জোরালোভাবে আবেদন জানিয়েছি যেন তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গণহত্যা, হত্যা ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ১৪টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়; যার মধ্যে দুyটি ছিল ধর্ষণের অভিযোগ। এছাড়া একটি অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, একটিতে ১০ বছর কারাদণ্ড, একটিতে সাত বছর কারাদণ্ড ও একটিতে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে একজন বীরাঙ্গনা নারী ও তার গর্ভে জন্ম নেওয়া এক যুদ্ধশিশু কায়সারের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ¨ দেন। রায়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় কায়সার ও তার বাহিনীর নৃশংসতার চিত্র উঠে আসে।