উচ্চ আদালত থেকে খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়ার সুযোগ আছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে নিজের আইনি চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির এক জরুরি বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার যে মামলার শুনানি চলছে, সে মামলায় তার জামিন পাওয়ার সুযোগ আছে কি না সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, ‘সুযোগ অবশ্যই আছে, সুযোগ অবশ্যই আছে...। এর থেকে পরিষ্কার করে আর কী বলব?’
এর আগে ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মানবিক কারণে খালেদা জিয়া জামিন পাওয়ার যোগ্য। আজকের সভায় আমরা স্পষ্টভাবে আলোচনা করেছি। এবং সবাই মনে করে খালেদা জিয়ার জামিন হওয়া উচিত।’
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সভা মনে করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে দীর্ঘ ৬৬৪ দিন বন্দি করে রাখা হয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। যে মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে তা অন্যায়। তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিবেচনায় আমরা তার আশু মুক্তি দাবি করছি। এ দাবি মানবিক এবং তিনি জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন। অন্যথায় তার দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে সরকারের ওপর বর্তাবে।
জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, আমরা ২২ তারিখ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে বলেছিলেন আইজি প্রিজনকে বলে দিয়েছেন। আমরা নামের তালিকা পাঠিয়েছি। কিন্তু খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন, জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিকল্পধারা একাংশের সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারি প্রমুখ।