কবিতা পাঠ ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হলো সদ্য প্রয়াত কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইনকে। বুধবার বিকেলে বাংলা একাডেমি এই স্মরণসভার আয়োজন করে।
একাডেমির রবীন্দ্রচত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে রবিউল হুসাইনের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আলোচনা পর্বে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘রবিউল হুসাইনের প্রয়াণের পর সংগতভাবেই বাংলা একাডেমি থেকে তার রচনাবলি প্রকাশের দাবি উঠেছে। এ দাবির সঙ্গে আমরাও একমত। আমরা বহুমাত্রিক রবিউল হুসাইনের রচনার নিরন্তর পাঠ প্রত্যাশা করি।’
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘রবিউল হুসাইন ব্যক্তিজীবনে যেমন মৃদু স্বভাবের ছিলেন, তেমনি তার কবিতাও মৃদুস্বরের। তার কবিতা ভালোভাবে পঠিত ও আলোচিত হলে তার ভিন্নধর্মী কাব্য বৈশিষ্ট্য অনুধাবন করা সম্ভব হবে।’
আলোচনায় অংশ নেন কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা, কবি মুহাম্মদ সামাদ, কবি ফারুক মাহমুদ, কবি গোলাম কিবরিয়া পিনু, কবি আসলাম সানী, কবি আমিনুর রহমান, রবিউল হুসাইন-এর অনুজ তাইমুর হুসাইন, নিকটাত্মীয় খন্দকার রাশিদুল হক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভাস্বর তার সামগ্রিক সাহিত্যভুবন। কবিতার সমান্তরালে তিনি লিখেছেন উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ-গবেষণা, শিশুসাহিত্য। সম্পাদনা করেছেন কবিতায় ঢাকা এবং অনুবাদ করেছেন পাবলো নেরুদা ও অ্যালেন গিন্সবার্গের কবিতা । গত শতকের ষাটের দশকে এদেশের ছোটকাগজ আন্দোলনে তিনি ভূমিকা রেখেছেন।
স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত কবির পুত্র জিসান হুসাইন রবিন, কবি সানাউল হক খান, ড. ইসরাইল খান, নাহার ফরিদ খান, লিলি হক প্রমুখ। রবিউল হুসাইনের লেখা মা কবিতা পাঠ করেন সায়েরা হাবীব। প্রয়াত কবির স্মরণে নিবেদিত কবিতা পাঠ করেন কবি রবীন্দ্র গোপ, তারিক সুজাত, খোরশেদ বাহার। সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা পিয়াস মজিদ।