চিরনিদ্রায় শায়িত ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চু

ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চুকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার উছলাপাড়া গ্রামের পৈতৃক বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর

অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রওশন আরা বাচ্চু (৮৭)। ঢাকায় শ্রদ্ধা নিবেদন ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে গতকাল ভোর ৪টার দিকে মরদেহ কুলাউড়ার উছলাপাড়ার নিজ গ্রামে আনা হয়। এরপর কফিন বাড়িসংলগ্ন নবীন চন্দ্র মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নেওয়া হলে মানুষের ঢল নামে। সেখানে জানাজার আগে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন, পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ, ভাষা রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. এম এ মুক্তাদির ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষ। এ সময় জেলা প্রশাসন নাজিয়া শিরিন জানান, রওশন আরা বাচ্চুর স্মৃতি রক্ষার্থে তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেবেন।

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার উছলাপাড়া গ্রামে ১৯৩২ সালের ১৭ ডিসেম্বর রওশন আরা বাচ্চুর জন্ম। পিরোজপুর গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে অনার্স ও পরে ইতিহাসে এমএ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতেই রওশন আরা বাচ্চু গণতান্ত্রিক প্রোগ্রেসিভ ফ্রন্টে  যোগ দিয়ে জড়িয়ে পড়েন ছাত্ররাজনীতিতে। সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ও উইমেন্স স্টুডেন্টস রেসিডেন্সের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

 ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে যে ছাত্রনেতারা ১৪৪ ধারা ভাঙতে চেয়েছিলেন তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম। সেদিন তার নেতৃত্বেই ইডেন মহিলা কলেজ এবং বাংলাবাজার বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সমাবেশস্থলে সমবেত হন। সমাবেশস্থলের বাইরে তখন পুলিশ ব্যারিকেড দিয়েছে। আরও কয়েকজন ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রওশন আরা বাচ্চু সেই ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন এবং দলের অন্যদের নিয়ে বেরিয়ে যান। পুলিশ এলোপাতাড়ি লাঠিপেটা শুরু করলে আহত হন দুজন, তাদের একজন রওশন আরা বাচ্চু। ঢাকার আনন্দময়ী স্কুল, লিটল অ্যাঞ্জেলস, আজিমপুর গার্লস স্কুল, নজরুল একাডেমি, কাকলি হাইস্কুলে রওশন আরা বাচ্চু শিক্ষকতা করেছেন দীর্ঘদিন। সবশেষে ২০০০ সালে বিএড কলেজের অধ্যাপক হিসেবে অবসরে যান সংগ্রামী এই নারী।